গোপালগঞ্জ অভিমুখে এনসিপির পদযাত্রা: ‘জেলার নামে আর বৈষম্য হবে না’

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার
গোপালগঞ্জ অভিমুখে এনসিপির পদযাত্রা: ‘জেলার নামে আর বৈষম্য হবে না’

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত জুলাই মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ১১টায় গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে দলটি। ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নামে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার এনসিপি’র শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট দিয়ে বলেন, “১৬ জুলাই… মার্চ টু গোপালগঞ্জ।” এর মাধ্যমে তিনি দলীয় কর্মীদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশগ্রহণের। একইভাবে, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমও একাধিক ফেসবুক পোস্টে এ কর্মসূচির প্রতি তার সমর্থন জানান এবং কর্মীদের প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন।

সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আমরা আসছি! জুলাই পদযাত্রায়, গোপালগঞ্জ জেলা শহরে, সকাল ১১টায়।” সেইসঙ্গে বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিপ্লবের সহযোদ্ধারা, ধূমকেতুর মতো ছুটে আসুন।”

গোপালগঞ্জ নামকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্য এবং দলীয়ীকরণের অভিযোগ চলে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির পদযাত্রার মূল বার্তা হচ্ছে—“গোপালগঞ্জ কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়, গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের।” সারজিস আলম তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, “আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশে গোপালগঞ্জের মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, জেলার নাম দিয়ে আর বৈষম্য হবে না।”

নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমের পোস্টগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এনসিপি তাদের আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে গোপালগঞ্জকে বেছে নিয়েছে কৌশলগতভাবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ রাজনৈতিকভাবে ‘বৈষম্য ও প্রতীকী একাধিপত্যের’ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জুলাই মাসের শুরু থেকেই এনসিপি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দলটি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গোপালগঞ্জে আজকের পদযাত্রা এনসিপির আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে তারা রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোয় বৈষম্যের অভিযোগের বিরুদ্ধে এক নতুন প্রতিবাদের ভাষা নির্মাণ করতে চাইছে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তি হিসেবে এনসিপির এই ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, সরকারবিরোধী মনোভাবকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, এনসিপি তার কৌশলী ভাষা ও কর্মসূচির মাধ্যমে সেই শূন্যতাকে পূরণ করার চেষ্টা করছে।

আজকের কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে প্রশাসনিক সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এই ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি।

দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার আবির্ভাব ঘটাতে চাওয়া এনসিপি’র এই উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটা নিশ্চিত, গোপালগঞ্জ অভিমুখে এই পদযাত্রা শুধুই একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী বার্তা—একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, যেখানে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত