৫০ বছর পর নাসার মানবচাঁদ অভিযান শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
৫০ বছর পর নাসার মানবচাঁদ অভিযান শুরু

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রথমবার চাঁদে মানুষের পদচিহ্নের পাঁচ দশক পর আবার মানবজাতিকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর উত্তেজনাপূর্ণ প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থা জানিয়েছে, আগামী ৬ মার্চ থেকে শুরু হতে পারে আর্টেমিস–২ মিশন। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্তুতির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে এই তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে।

এই মিশনের লক্ষ্য চাঁদে অবতরণ নয়; বরং মহাকাশযানটি চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করবে। অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা চাঁদকে অত্যন্ত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। এটি মানব ইতিহাসে চাঁদ পর্যবেক্ষণের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মিশনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই মহড়া উৎক্ষেপণের আগে রকেটে জ্বালানি পূরণের মাধ্যমে করা হয়, যা সফল উৎক্ষেপণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, চলতি মাসের শুরুতে প্রথম কাউন্টডাউন মহড়ায় হাইড্রোজেন লিকের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় মহড়ায় তা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সম্পন্ন দ্বিতীয় পরীক্ষায় বড় কোনো জ্বালানি লিক দেখা যায়নি।

নাসা জানায়, উৎক্ষেপণ সফল হলে মহাকাশচারীরা প্রায় ১০ দিনের যাত্রায় পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন এবং এরপর চাঁদের চারপাশে ফিগার-এইট আকৃতির পথে উড়াল দেবেন। এটি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানবজাতিকে আবার চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে আনবে। এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদ ও মহাকাশের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা ভবিষ্যতের চাঁদ অভিযানে নাসাকে সহায়তা করবে।

মিশনের জন্য রকেটে প্রায় ৭ লাখ গ্যালনেরও বেশি তরল জ্বালানি ভরা হয়েছে। উৎক্ষেপণ প্যাডে ক্লোজআউট দল মহাকাশযানের হ্যাচ বন্ধের মহড়া সম্পন্ন করেছে এবং উৎক্ষেপণ কাউন্টডাউনের শেষ ধাপ ‘টার্মিনাল কাউন্ট’ দু’বার পরীক্ষা করা হয়েছে। নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কন্ট্রোল সেন্টারে নভোচারীরাও পরীক্ষার একটি অংশ পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এই অভিযানে চারজন নভোচারী অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এদের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো মানুষ আবার চাঁদের নিকটবর্তী কক্ষপথে পৌঁছাবে। এই যাত্রা সফল হলে নভোচারীরা মানব ইতিহাসে সবচেয়ে দূরবর্তী ভ্রমণের রেকর্ড গড়বেন।

নাসার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রকৌশলীরা রকেটে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং মহাকাশচারীরা নিরাপদে উৎক্ষেপণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।” এই অভিযান শুধুমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই নয়, বরং মানবজাতির কল্পনাশক্তি ও জ্ঞানের অগ্রগতিতেও এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্টেমিস–২ মিশন কেবল একটি মহাকাশ অভিযান নয়, বরং চাঁদের কক্ষপথে মানুষের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। এটি মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে নাসার নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং ভবিষ্যতের চাঁদ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করবে।

মহাকাশযাত্রা সম্বন্ধে নাসা কর্মকর্তারা আরও জানান, “এই মিশনের মাধ্যমে আমরা চাঁদের উপগ্রহ ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারব, যা পরবর্তী মানব ও রোবটিক অভিযানের জন্য অপরিহার্য।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান লিখেছেন, “এই পরীক্ষা ছিল চাঁদের পরিবেশে আমেরিকার প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বড় অগ্রগতি।”

এভাবে আর্টেমিস–২ মিশন মানুষের কল্পনাশক্তি, গবেষণা ও প্রযুক্তির সীমা প্রসারিত করবে। এটি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে এবং মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে লেখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত