বিদায়ি উপদেষ্টাদের ফোনে রহস্যময় হুমকি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার
বিদায়ি উপদেষ্টা হুমকি ফোন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কাছে গোয়েন্দা সংস্থার নাম ব্যবহার করে হুমকিপূর্ণ ফোনকলের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে উল্লেখ করে এসব ফোনে তাদের উপর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর জন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে। সাবেক উপদেষ্টাদের কাছে আসা ফোনগুলোর প্রকৃত উৎস সরকারের বা বৈধ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ডিজিএফআই’র পক্ষ থেকে জানিয়েছে, তাদের কেউ এমন কল করেননি এবং এটি একটি ভুয়া হুমকি ছড়ানোর প্রচেষ্টা।

সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। সেইদিনই বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেন। স্বাভাবিক নিয়মে নতুন সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বদলি বা সরিয়ে দেয়। এরই মধ্যে বিদায়ি উপদেষ্টাদের ফোনে হুমকি দেওয়ার খবর উঠে আসে, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সদ্যবিদায়ী দুজন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলায় জানা গেছে, তারা ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপস ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন পেয়েছেন। ফোনে প্রথমে সালাম ও ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করা হলেও ধীরে ধীরে কথোপকথন রূঢ় ও হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠেছে। ফোনকলে উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য তাদের ভোগান্তি হতে পারে এবং গণমাধ্যমে এই বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিদায়ি উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীরপ্রতীক জানিয়েছেন, দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই তার কাছে একাধিক হুমকিপূর্ণ ফোন এসেছে। ফোনদাতারা নিজেদের ডিজিএফআই কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে কথা বলেছেন। এ সময় ফোনে ডিজিএফআইয়ের মনোগ্রামও প্রদর্শিত হয়েছে, যা উপদেষ্টাকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তিনি ইতোমধ্যেই বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ডিজিএফআই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন। ডিজিএফআই’র পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এই ধরনের ফোনকল তাদের পক্ষ থেকে করা হয়নি।

অপর বিদায়ি উপদেষ্টা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান, আরও কয়েকজন উপদেষ্টার কাছেও একই ধরণের ফোন এসেছে। ফোনে অতীত কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভুগতে পারেন। তবে এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত হয়েছেন যে, ফোনগুলো ভুয়া এবং কোনো বৈধ উৎস নেই।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদায়ি সরকারের উপদেষ্টারা সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকলেও তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। দেশের দায়িত্ব পালন করার কারণে কিছু প্রভাবশালী মহল তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে এবং ইন্টারনেটভিত্তিক ভুয়া ফোনকলের মাধ্যমে ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সাবেক উপদেষ্টাদের নিরাপত্তা ও মানসিক চাপ বেড়ে গেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারিভিত্তিক নয় এমন হুমকিপূর্ণ ফোনকল কিভাবে বন্ধ করা যায় এবং কীভাবে সাবেক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের উচিত প্রমাণসহ তদন্ত করে ফোন হুমকির উৎস চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

বিদায়ি উপদেষ্টাদের নিরাপত্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ও সচেতনতা নিশ্চিত করা, একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে, ভুয়া হুমকির মাধ্যমে সাবেক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য উদ্বেগজনক বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত