প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর পুরোনো ঢাকার নারিন্দা কাঁচাবাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতের আধারকালে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একটি বাসায় এয়ার কন্ডিশনারের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। এই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বাড়ির দেওয়াল ধসে পাশের একটি টিনের ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে একজন নারী আহত হয়েছেন।
দগ্ধরা হলেন মুক্তার ব্যাপারী (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৫) এবং তাদের ছেলে সেলিম (৩০)। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। মুক্তার ব্যাপারীর শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ, সেলিনা বেগমের ২০ শতাংশ এবং সেলিমের ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে সেলিমের অবস্থা সবচেয়ে সঙ্কটজনক বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন।
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মুক্তার ব্যাপারী ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনারের যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার বাসাতেই ব্যবসায়িক কিছু মালামাল রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসায় রাখা এসির গ্যাস ভর্তি একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটায়।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাসাটির দেওয়াল ধসে পাশের একটি টিনশেড ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটির টিন ভেঙে ভেতরে থাকা এক নারী আহত হন। আহত নারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এসি ও ফ্রিজের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ সাধারণত সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না থাকলে, তাপমাত্রা বা গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসিক এলাকায় ব্যবসায়িক যন্ত্রপাতি ও গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যাবশ্যক।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। এলাকাবাসী জানান, নারিন্দা কাঁচাবাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এ ধরনের বিস্ফোরণ বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের তৎপরতায় প্রাথমিকভাবে সিলিন্ডারের বিস্ফোরণকেই দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে তদন্তে যদি কোনো অবহেলা বা অগোছালো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের চিহ্ন পাওয়া যায়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওয়ারী থানা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছেন।
দগ্ধ পরিবারের আশেপাশের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় তারা শোনেন বিরাট ধাক্কা এবং ভাঙার শব্দ, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রভাব এখনো এলাকায় অনুভূত হচ্ছে।
সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। বিশেষ করে আবাসিক ও ব্যবসায়িক এলাকায় গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি রাখার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। নারিন্দার এই বিস্ফোরণ এলাকার নিরাপত্তা ও বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার জন্য একবার আরও জোরালো সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।