প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সনাতন পদ্ধতিতে পাথর তোলার বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এক ছটাক বালু-পাথরও এদিক-সেদিক করা যাবে না। তিনি সতর্ক করেছেন, যাঁরা এই নিয়ম ভঙ্গ করে বালু-পাথর লুটপাটে জড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ অবৈধভাবে বালু বা পাথর উত্তোলন করতে না পারে। সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার কোয়ারিগুলোতে এই নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, বালু ও পাথরের লুটপাট রোধে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে বিজিবি থেকেও একটি প্লাটুন দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোয়ারিগুলোর জন্য আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে পারেন।
মন্ত্রী কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বিশেষ মহল এই অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত থাকে, তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গভীর রাতে কেউ যদি চোর-পুলিশ খেলা শুরু করে, সেক্ষেত্রেও আইন কার্যকর হবে এবং কেউ টের পাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রাত গভীর থাকতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ টেরও পাবে না।”
সিলেটের কোয়ারিগুলোতে অবৈধভাবে পাথর ও বালু চুরি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই লুটপাট বৃদ্ধি পায় এবং ২০২৫ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তা রীতিমতো গণলুটে রূপ নেয়। বিশেষ করে দেশের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত সাদাপাথরের প্রায় ৮০ শতাংশ পাথর অবৈধভাবে তোলা হয়। এই পরিস্থিতি প্রতিরোধে মন্ত্রী দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বালু ও পাথর কোয়ারিগুলোতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি রাখার জন্য সচেষ্ট। তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকলে তারাও আইনবিধি থেকে বঞ্চিত নয়। সকলের জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য।
কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বালু-পাথর লুটপাট রোধে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করবে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতাদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তারা অবৈধ কার্যকলাপের বিষয়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণ রাখেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না কোনো এলাকা বা কোয়ারি অবৈধভাবে ব্যবহৃত হোক। যারা নিয়ম ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়তা হবে।” তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকবেন এবং যেকোনো ধরনের লুটপাট প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
এভাবে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বালু ও পাথর কোয়ারিগুলোতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, অবৈধ উত্তোলন রোধ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তার এই হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।