কান্নার দৃশ্যে গ্লিসারিন ব্যবহার করিনি”—অভিনয়ে আবেগের শক্তিই ভরসা শুভশ্রীর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৪ বার
কান্নার দৃশ্যে গ্লিসারিন ব্যবহার করিনি”—অভিনয়ে আবেগের শক্তিই ভরসা শুভশ্রীর

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতীয় বাংলা সিনেমার অগ্রগামী অভিনেত্রীদের তালিকায় বর্তমানে অন্যতম আলোচিত নাম শুভশ্রী গাঙ্গুলী। নিজের অভিনয় দক্ষতা, চরিত্রে গভীর মগ্নতা এবং প্রাকৃতিক অভিব্যক্তির কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন দর্শকপ্রিয়তার অনন্য প্রতীক। সম্প্রতি এক ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভশ্রী নিজের অভিনয়শিল্পের গভীরতা এবং অন্তরের সংযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে শুভশ্রী স্পষ্টভাবে জানান, তিনি অভিনয়ের সময় কখনোই কৃত্রিম চোখের জল বা গ্লিসারিন ব্যবহার করেন না। বরং নিজের আবেগ, অভিজ্ঞতা ও চরিত্রের সঙ্গে আত্মিক সংযোগ থেকেই কান্নার দৃশ্যগুলোতে চোখে জল চলে আসে। তার ভাষায়, “আমি প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ একজন মানুষ। যা করি, তা মনপ্রাণ দিয়ে করি। চরিত্রে ঢুকে পড়ি পুরোপুরি। আজ পর্যন্ত অভিনয়ে গ্লিসারিন লাগাতে হয়নি; কান্না নিজেই চলে আসে চোখে।”

শুধু দর্শকই নয়, পরিচালক মহলেও শুভশ্রীর এই আবেগপ্রবণ অভিনয়শৈলী প্রশংসিত হচ্ছে বারবার। শুভশ্রী বলেন, “এই ভালোবাসা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। প্রত্যেকটা চরিত্রের ভেতর নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই। ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির চরিত্রটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানে আমি পুরোপুরি ডুবে আছি এক নতুন অভিজ্ঞতায়।”

অভিনয়ে এই নিষ্ঠা ও আত্মনিবেদন যেন শুভশ্রীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। তার চলমান নতুন প্রকল্প ‘গিরিশ ঘোষ’–এর শুটিং ঘিরেও উচ্ছ্বাস রয়েছে ভক্তদের মধ্যে। এই ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন বাংলা থিয়েটারের কিংবদন্তি ‘বিনোদিনী’ চরিত্রে। সম্প্রতি পুরীর জগন্নাথ ধামে অনুষ্ঠিত শুটিংয়ে শুভশ্রীকে দেখা গেছে ঐতিহ্যবাহী সবুজ বালুচরি শাড়ি, সোনার গয়না, সনাতনী খোঁপা ও বাহারি বটুয়া হাতে একেবারে ঊনবিংশ শতকের নারীরূপে।

অন্যদিকে, ‘গিরিশ ঘোষ’ চরিত্রে অভিনয় করছেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্যকার ব্রাত্য বসু। তাদের যুগল দৃশ্যের শুটিং জগন্নাথ মন্দিরের আশপাশে হয়েছে, যেখানে দর্শনার্থী ও ভক্তদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবির নির্মাণঘন পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক আবহে এমন দৃশ্যধারণ বাংলা চলচ্চিত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

শুভশ্রীর এই আত্মনিবেদিত অভিনয়, পেশাদারিত্ব এবং আবেগনির্ভর শিল্পচর্চা তাকে শুধু পর্দার একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরছে। অভিনয়ে কৃত্রিমতার বাইরে গিয়ে হৃদয়ের গভীর থেকে চরিত্রে মিশে যাওয়ার যে সাধনা, শুভশ্রী যেন সেটিই আজকের দিনে স্মরণ করিয়ে দিলেন চলচ্চিত্রের ভাষায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত