ইরানে সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৭ বার
ইরানে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানে চলমান সামরিক সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৭০০ জনের বেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৪২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭৬ শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৯০০-এর বেশি মানুষ। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছে এবং আরও শতাধিক মৃত্যুর খবর যাচাই করা হচ্ছে।

সংঘাতের কারণে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কারাজের একটি মসজিদ, বিভিন্ন আবাসিক ভবন, রাজধানীর দক্ষিণে একটি গভর্নরের অফিস এবং হারমুজ প্রণালীর বন্দার আব্বাসের শাহিদ বাহোনার পিয়ার। তেহরানের হাসপাতালগুলোও হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। সানানদাজের কুর্দিস্তান ল’ এনফোর্সমেন্ট এবং সীমান্ত রক্ষী কমান্ড কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইসফাহানের একটি বিমান ঘাঁটি এবং তেহরানের একটি সেনা ঘাঁটিতেও হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই তথ্যগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া গেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

সংঘাতের সূত্রপাতের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পর্যন্ত প্রচুর সাধারণ মানুষ নিহত এবং আহত হওয়ায় মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য, খাদ্য ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক সেবা ব্যাহত হয়েছে। সংস্থার মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানে চলমান এই সংঘাত কেবল সামরিক দিক থেকে নয়, সামাজিক ও মানবিক দিক থেকেও বিপজ্জনক। শিশু ও নারীসহ অসংখ্য মানুষ এতে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা মানবিক সহায়তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখুক।

সংঘাতের ফলে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক এবং সামাজিক চিত্রও বিপর্যস্ত হচ্ছে। মানুষজন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মানচিত্র দিনে দিনে বাড়ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।

এতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইরানে নিখোঁজ ও আহতদের তালিকা প্রস্তুত করছে এবং তৎপর হচ্ছে। এসব সংস্থা ইরানের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ধর্মীয় স্থান, আবাসিক এলাকা, সরকারি অফিস ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে, এ ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। তেহরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন করা জরুরি।

এই সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা মানবিক কর্তব্য হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া হামলার কারণে জনগণ দৈনন্দিন জীবনে বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com