নলছিটিতে আগুনে ছয় দোকান পুড়ে ছাই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৩ বার
নলছিটিতে আগুনে ছয় দোকান পুড়ে ছাই

প্রকাশ: ৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠি বোর্ডের হাট এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৪ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঈদের চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোও গ্রাস করে।

স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত নলছিটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে নিয়ন্ত্রণের আগেই ছয়টি দোকানের মালামাল ও আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

নলছিটি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অনুমান করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে এই আগুন তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয়কে ঝুলিয়ে দিয়েছে। তারা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন এবং সরকারী সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত দেড়টার সময় হঠাৎ চায়ের দোকান থেকে ধোঁয়ার সঙ্গেই আগুন দেখা যায়। ধোঁয়া ও আগুনের ধ্বংসাত্মক বিস্তার দেখে আশপাশের মানুষ দ্রুত দোকানগুলো থেকে মালামাল বের করার চেষ্টা করেন। তবুও আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণের আগেই ছয়টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই এলাকায় আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে। তারা আশা করেছেন, সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসন অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে, তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট পরে প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আহত বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি গুরুতর, যা তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি বড় প্রভাব ফেলেছে।

এ ঘটনার ফলে শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে। হাটের দোকানগুলো পুড়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষদের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও জিনিসপত্র সংগ্রহে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের জীবিকার জন্য দোকানগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারি সাহায্য প্রয়োজন।

সংক্ষেপে, নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠি বোর্ডের হাটে রাতের অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এক বিপর্যয় স্বরূপ। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার প্রাথমিক ধারণা থাকলেও, প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণে বড় ধরনের মানবিক ক্ষতি এড়িয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা দ্রুত সহায়তা ও পুনর্নির্মাণের আশা করছেন, যাতে তাদের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি পুনঃস্থাপন করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত