প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকার আগামী মে মাস থেকে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে একযোগে চারা লাগানোর কাজ সারা দেশে শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, গাছ লাগানো শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকে নয়, এটি গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, মাটি ও পানির সংরক্ষণ এবং বায়ু দূষণ কমানো—এসব ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকবে।
পরিবেশ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রস্তুত পোশাক খাতের (গার্মেন্টস সেক্টর) পরপরই কার্বন ট্রেডিংকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বনায়ন ও কার্বন শূন্যীকরণের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পরিবেশবান্ধব করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা মোকাবিলায় সরকার সতর্ক এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, দেশের জন্য জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানী ব্যবহারের সঙ্গে বনায়ন প্রকল্পকে সমন্বয় করে দেশের উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় সরকার সংস্থাকে গাছ রোপণের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেওয়া হবে। এছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হবে। সরকার আশা করছে, ব্যাপক জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
পরিবেশ মন্ত্রী আরও বলেন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কাজ শুধু বৃক্ষায়ন নয়, এটি দেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “গাছ আমাদের অক্সিজেন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আগামী প্রজন্মকে সবুজ ও টেকসই পরিবেশ প্রদান করতে পারব।”
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে কৃষি ও মৎসজীবী সম্প্রদায়ের উপকারিতা সম্পর্কিত উদ্যোগও নেওয়া হবে। নতুন বনাঞ্চল ও গাছপালা স্থানীয় বাস্তুসংস্থানকে সমৃদ্ধ করবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে।
সচিবালয়ে বৈঠকের সময় মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক কল্যাণের মধ্যে সঠিক সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। গাছ রোপণ কর্মসূচি শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সরকার আশা করছে, মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই বৃহৎ বনায়ন কর্মসূচি দেশের জলবায়ু, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব নীতি ও উদ্যোগের ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি তৈরি করবে।