সর্বশেষ :
বেঁচে থাকাই বড় অর্জন’, তবে ইরানের লাভ আরও গভীর: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি: মির্জা ফখরুল খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রণীত বাজেটকে ‘চানাচুর’ বলার সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আগ্রহ আশুরার রোজার ফজিলত: গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত সুযোগ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি কুমিল্লায় ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ তরুণের পায়ে গুলি: ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী থালা-বাসন পরিষ্কার নিয়ে বিরোধ, মালিকের হাতুড়ির আঘাতে হোটেলকর্মী নিহত

ছয় দিনে বাংলাদেশ থেকে ২১০ ফ্লাইট বাতিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৫১ বার
ছয় দিনে বাংলাদেশ থেকে ২১০ ফ্লাইট বাতিল

প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে ছয় দিনে বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে ২১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফ্লাইটের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ৫ মার্চ একদিনে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, সংঘাত শুরু হওয়ার প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি এবং ৫ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এই পরিস্থিতি যাত্রীদের জন্য চরম অসুবিধা সৃষ্টি করেছে।

বেবিচক জানায়, বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে কাতারের চারটি, কুয়েতের চারটি, জাজিরার (কুয়েত) চারটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) ১০টি, এমিরেটসের চারটি, ইউএস-বাংলার দুটি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) দুটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) চারটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত। এসব বাতিল ফ্লাইটের কারণে বহু যাত্রী বিমানবন্দর ও বিদেশে আটকা পড়ে যান।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট সকালেই তাদের ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে ও হোটেলে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নৈমিত্তিক সুবিধা সীমিত হওয়ায় অসুবিধা ও আতঙ্কের মুখে দিন কাটাচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো—ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান—সংঘাতের কারণে আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে এই অঞ্চলে উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো বর্তমানে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ফ্লাইটের পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বাংলাদেশের যাত্রী ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ও এই পরিস্থিতিতে অসুবিধার মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় তাদের ব্যয় ও সময় উভয়ই ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীসহ যারা জরুরি কাজে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন, তারা বর্তমানে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রবাসীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এই পরিস্থিতি কেবল যাত্রীদের জন্য নয়, বিমান পরিবহন খাতের জন্যও প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থাগুলোকে ফ্লাইট বাতিল, পুনঃনির্ধারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হচ্ছে। বিমানবন্দরগুলোর ব্যস্ততা বেড়ে গেছে এবং নিরাপত্তা ও যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা স্থায়ী হলে বৈশ্বিক বিমান চলাচলে আরও ব্যাঘাত তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে যেসব ফ্লাইট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে বিকল্প রুট খুঁজে বের করতে হবে। বিমান সংস্থাগুলোকে যাত্রী নিরাপত্তা, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও সতর্ক করেছে, যাত্রীদের উচিত বিমান সংস্থার আপডেট নিয়মিত মনিটর করা এবং যাত্রা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া যেসব দেশে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি।

সংঘাত ও আকাশসীমা বন্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও থাকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন ও সহায়তা প্রদান করছে।

ফলে, ছয় দিনের মধ্যে ২১০ ফ্লাইট বাতিল হওয়া কেবল যাত্রীদের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে না, বরং বিমান খাতের আর্থিক ক্ষতি, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পরিকল্পনার বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য চেইনের উপরও প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান ও নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত