প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিস্ফোরক ওপেনার ফিন অ্যালেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। এই দারুণ পারফরম্যান্স তার ভারতীয় সিরিজে পাওয়া অভিজ্ঞতার ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের বিপক্ষে খেলা পাঁচ ম্যাচের সিরিজ নিউজিল্যান্ড দলের জন্য বিশ্বকাপের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। অ্যালেন নিজেই ম্যাচ শেষে বলেছেন, সেই সিরিজেই তারা এই ধরনের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে যা তাকে সেমিফাইনালে কার্যকর প্রমাণিত করেছে।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য মাত্র ১২.৫ ওভারে তাড়া করে নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জিতে যায়। অ্যালেনের ধামাকা ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ওপেনিং সঙ্গী টিম শেইফার্ট ৩৩ বলে ৫৮ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অ্যালেন ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমাদের বোলাররা অসাধারণ শুরু এনে দিয়েছে। ওরাই আসলে ম্যাচটা আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই ধরনের উইকেটে শুরুতেই উইকেট নিতে পারলে এবং চাপ তৈরি করতে পারলে ব্যাটারদের জন্য কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।’
অ্যালেন ভারতের বিপক্ষে খেলা সিরিজের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘বিশ্বকাপের আগে ভারতের বিপক্ষে যে সিরিজটা খেলেছিলাম, সেটার গুরুত্ব এখানেই বোঝা যায়। কালো মাটির উইকেটে পাঁচটা ম্যাচ খেলেছিলাম, এই ধরনের প্রস্তুতি অন্যভাবে পাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দল হিসেবে অনেক কিছু শিখেছি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লড়াই করার মানসিকতা আমাদের আছে। আজ বিশেষ করে বোলাররা সেটার প্রমাণ দিয়েছে এবং ম্যাচের শুরুতেই টোন সেট করে দিয়েছে।’
এছাড়া অ্যালেন শিগগিরই আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন, যেখানে তাকে ২ কোটি রুপিতে দলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কলকাতায় এটিই আমার প্রথম ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা কালো মাটির উইকেটে খেলেছিলাম, তাই এই পিচে কী আশা করা যায় সেটা কিছুটা বুঝতে পেরেছি।’
নিউজিল্যান্ড ভারতের বিপক্ষে সিরিজ হারলেও অ্যালেন মনে করেন, সেই অভিজ্ঞতা দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত শেখার প্রয়োজন হয়। আমরা সিরিজটা জিততে পারিনি, কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে লড়াই করতে পেরে অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।’
অ্যালেন তার ওপেনিং সঙ্গী শেইফার্টের প্রশংসা করতে ভোলেননি। তিনি বলেন, ‘সে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই বাউন্ডারি মারছে। দুর্দান্ত ফর্মে আছে। সে অসাধারণ খেলোয়াড় এবং বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে সে কী করতে পারে। কখনো কখনো মনে হয় আমি যেন সেরা আসন থেকে বসে তার ব্যাটিং দেখছি। টিমির সঙ্গে ব্যাট করা সত্যিই অনেক আনন্দের।’
গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি বিশ্লেষণ করে তার শিক্ষা নিয়েছে। অ্যালেন বলেন, ‘ওদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা আমরা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেছি। পুরো টুর্নামেন্টেই তারা দারুণ খেলেছে। তবে আগে তাদের বিপক্ষে খেলেছিলাম বলে তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু ধারণা পেয়েছিলাম, যা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’
রোববার (৮ মার্চ) বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের আশা থাকবে দেশব্যাপী সমর্থন। অ্যালেন বলেন, ‘ফাইনাল খুবই বিশেষ একটি ম্যাচ, এমন সুযোগ বারবার আসে না। আমরা আশা করি পুরো দেশ আমাদের সমর্থন করবে।’
এই জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দল শুধু সেমিফাইনালে নয়, বরং বিশ্বকাপের ফাইনালে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অ্যালেনের উদ্ভাসিত পারফরম্যান্স এবং ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা তাকে এবং দলকে একটি শক্তিশালী মানসিক ও কৌশলগত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।