প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের ৬৪ জেলায় যুব উন্নয়ন অধিদফতরের অধীনে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ষষ্ঠ ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষার্থী। প্রকল্পে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। এসব আবেদনের মধ্য থেকে প্রার্থীদের বাছাই করে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাচের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৮০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রতিটি আসনের জন্য গড়ে ১২ থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ৭ মার্চ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলায় ৭৫ জন করে প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হয়েছে। এর আগে প্রকল্পটি প্রথমে ১৬ জেলায় এবং পরবর্তীতে ৪৮ জেলায় বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে দেশের সব ৬৪ জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন। মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।
প্রশিক্ষণ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো দেশের যুব সমাজকে ডিজিটাল দক্ষতা ও ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আত্মনির্ভর হতে সক্ষম করে তোলা। এতে অংশগ্রহণকারী যুবকেরা বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন। যুব উন্নয়ন অধিদফতর জানান, প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা অনলাইন কাজের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা জানান, তারা দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কাজের প্রতি আগ্রহী হলেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার অভাবে তাদের প্রাথমিক সুযোগ সীমিত ছিল। এ কর্মসূচি তাদের জন্য একটি সোনালি সুযোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও অনলাইন কাজের বাস্তব চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকবে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রশিক্ষকরা জানান, প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে বিভিন্ন সেশন ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হবে। এতে শুধু তথ্য প্রযুক্তির মৌলিক জ্ঞান নয়, বরং প্রফেশনাল অনলাইন ব্যবসা, যোগাযোগ দক্ষতা, ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ যুব সমাজের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলে তারা আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের কর্মকর্তা জানান, কর্মসূচি দেশের যুব সমাজের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অর্থনীতি ও ডিজিটাল শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি যুবককে প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম করে তোলা, যাতে তারা স্বনির্ভর ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
এভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু শিক্ষামূলক নয়, বরং দেশের যুব সমাজকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে। প্রতিটি জেলায় ৭৫ জন করে প্রশিক্ষণার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এতে দেশের যুব সমাজের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার মানও উন্নত হবে।
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের যুব সমাজের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। প্রতিটি প্রার্থী আগ্রহী ও উৎসাহী মনোভাব নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। এটি দেশের জন্য শুধু দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী যুব সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।