যশোরে অস্ত্রসহ তিন সন্ত্রাসী আটক, জনতার হাতে গণপিটুনি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৭ বার
যশোরে অস্ত্রসহ তিন সন্ত্রাসী আটক, জনতার হাতে গণপিটুনি

প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় শুক্রবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গোপীনাথপুর এলাকায় অস্ত্রসহ তিন জন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। অভিযানের সময় স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে তাদের ধরে গণপিটুনি দেয় এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনা স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের প্রতি জনরোষের প্রকাশ।

আটককৃতরা হলেন রিয়াজ সরদার ওরফে সূর্য (২৪), শাকিল সরদার (২৬) এবং রবিউল মোল্লা (২২)। রিয়াজ সরদার মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারের হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি। শাকিল সরদার ও রবিউল মোল্লা অভয়নগর ও ইছামতী গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে স্থানীয়দের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ যখন গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছায়, তখন সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ধরে। উত্তেজিত জনতা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করে ১টি ৯ এমএম পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. নূরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অস্ত্রের ছড়াছড়ি দীর্ঘদিন ধরে তাদের জীবনে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। এই ধরনের অভিযান স্থানীয়দের জন্য নিরাপত্তার আশ্বাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একাধিক মানুষ জানান, “আমরা চাই এলাকায় শান্তি ফিরে পাক। যারা আইন ভঙ্গ করছে তাদের কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এ ধরনের ঘটনাগুলো শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব নয়, স্থানীয় জনতার সক্রিয় অংশগ্রহণও অপরিহার্য। গোপীনাথপুরের এই অভিযানে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা তা প্রমাণ করেছে। জনতার তৎপরতা, পুলিশি অভিযান এবং অস্ত্র উদ্ধার এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সক্রিয় পদক্ষেপ স্থানীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, জনসাধারণের নিরাপত্তার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অঞ্চলে অপরাধ ও সন্ত্রাসের মাত্রা কমাতে সহায়ক।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের পাশাপাশি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, হত্যাচেষ্টা ও প্রভাবশালী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম চলমান থাকবে।

উপজেলার মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ প্রয়োজন ছিল। জনতা ও পুলিশের এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্য সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।

অভয়নগর থানার কর্মকর্তারা জানান, এরকম অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখতে পুলিশ তৎপর থাকবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিপূর্ণ জীবন বজায় রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, এই ঘটনার পর স্থানীয়রা পুনরায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পেতে আশাবাদী। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন এবং অস্ত্রসহ অপরাধী আটক করাকে তারা ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করছেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং জনতার সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

মোটকথা, যশোরের অভয়নগরে অস্ত্রসহ তিন সন্ত্রাসী আটক এবং জনতার সক্রিয় প্রতিক্রিয়া স্থানীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এটি প্রমাণ করছে যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যৌথ সহযোগিতা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত