প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরের শক্তি ফিরে পেতে সঠিক পানীয় নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। সারাদিন তৃষ্ণার্ত থাকার পর অনেকেই ভুলভাবে এমন পানীয় বেছে নেন যা শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইফতারে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর পানীয় প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। বাজারে প্রচলিত অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা শরবত সাময়িক সতেজতা এনে দেয়, কিন্তু তা দ্রুত ক্লান্তি তৈরি করে এবং হজমে সমস্যা ডেকে আনে। তাই শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষায় প্রাকৃতিক উৎসই নিরাপদ।
ডাবের পানি ইফতারের জন্য এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী পানীয় হিসেবে বিবেচিত। এটি শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে এবং পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস। দীর্ঘ রোজার পর যখন শরীর পানিশূন্য হয়ে থাকে, তখন ডাবের পানি পান করলে শক্তি পুনঃস্থাপন দ্রুত হয়। একইভাবে খেজুর ও দুধের সংমিশ্রণও শক্তি জোগায় এবং শরীরে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে। প্রাচীন এই পদ্ধতি রোজাদারদের মধ্যে এখনো প্রচলিত এবং কার্যকর।
তাজা ফলের রসও ইফতারে গুরুত্বপূর্ণ। তরমুজ, কমলা বা বেদানার রস ভিটামিনের চাহিদা পূরণে কার্যকর। তবে এখানে আলাদা করে চিনি মেশানো উচিত নয়। লেবু-মধু পানিও হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস লেবু-মধু পানি রোজাদারের জন্য এক প্রকার জাদুর মতো কাজ করে।
পুষ্টিকর স্মুদি ও স্যুপও ইফতারের শুরুতে শরীরকে প্রস্তুত করে। দই, চিয়া সিড বা ফলের স্মুদি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে পরবর্তী খাবার খুব দ্রুত হজম হয় না। গরম স্যুপ পাকস্থলিকে পরবর্তী খাবারের জন্য প্রস্তুত করে এবং শরীরকে সহজে শক্তি গ্রহণের জন্য সক্ষম করে তোলে।
বিশেষ সতর্কতা হিসেবে বলা হচ্ছে, ইফতারে অতিরিক্ত বরফ দেওয়া বা খুব ঠাণ্ডা পানি পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এটি হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধে স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। রোজাদারদের উচিত প্রাকৃতিক ও হালকা পানীয়ের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া, যা শরীরকে সতেজ রাখে এবং স্বাস্থ্যকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ইফতারে সঠিক পানীয় নির্বাচন শুধু শরীরের শক্তি ফিরিয়ে দেয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে রোজাদারের হজম ও স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই রোজাদাররা ইফতারের শুরুতে প্রাকৃতিক, পুষ্টিকর এবং হালকা পানীয় বেছে নেওয়ার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন।