দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টি, কমতে পারে তাপমাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৩ বার
সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বঙ্গোপসাগর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে গরমে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

সাম্প্রতিক আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে। এই দুটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের আকাশে মেঘের ঘনত্ব বাড়ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত দেখা যেতে পারে।

এ বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে দেশের প্রায় সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘনত্ব বাড়তে পারে এবং সেই সঙ্গে দমকা হাওয়াও বইতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দু-একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই সময় দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মার্চ মাসে সাধারণত মৌসুম পরিবর্তনের সময় হওয়ায় আবহাওয়ায় এমন ওঠানামা দেখা যায়। শীতের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে গরমের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে এই সময়টাতে অনেক এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া দেখা দেয়। এই সময় বজ্রপাতের ঘটনাও তুলনামূলক বেশি ঘটে থাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী দিনের পূর্বাভাসেও একই ধরনের পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের আটটি বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই সময় দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরপর মঙ্গলবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং তার সঙ্গে বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

বুধবারের পূর্বাভাসেও প্রায় একই ধরনের আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনাও ঘটতে পারে। এই সময় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে, আর রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এই বৃষ্টিপাত দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে স্বস্তি এনে দিতে পারে। গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল। ফলে অনেক এলাকাতেই গরমের অনুভূতি বাড়ছিল। তবে বৃষ্টির কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটবে এবং তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে।

তবে বজ্রবৃষ্টির সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, জেলে বা নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য বজ্রপাত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা বা বড় গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদী বা জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থান করলেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার এই পরিবর্তন কৃষি ক্ষেত্রেও কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বোরো ধানের জমি এবং সবজি ক্ষেতের জন্য মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অনেক সময় উপকারী হয়। তবে অতিরিক্ত দমকা হাওয়া বা ঝড়ো বৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তাই কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতেও এই বৃষ্টির প্রভাব দেখা যেতে পারে। যানবাহন চলাচল, অফিসগামী মানুষের যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার পর বৃষ্টির উপস্থিতি নগরবাসীর জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর ফলে তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে।

এ কারণে আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য জানতে নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়টাতে আবহাওয়ার আচরণ দ্রুত বদলে যেতে পারে এবং তার প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত