মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৫ বার
ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরান নিয়ে তাদের কূটনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনা জোরদার করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানে সীমিত আকারে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে প্রেসিডেন্টের টেবিলে সব সম্ভাব্য বিকল্প খোলা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে স্থল অভিযান বাস্তবায়ন করা একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনা। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা সহজে প্রতিহতযোগ্য নয়। পেন্টাগনের অনানুষ্ঠানিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই যুদ্ধ সীমাবদ্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে সৈন্য মোতায়েন করলে যুদ্ধের মাত্রা ও পরিধি বেড়ে যাবে এবং মার্কিন বাহিনীর ওপর ঝুঁকির মাত্রা অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

এনবিসি নিউজ ও দ্য ইনডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ছোট আকারে কৌশলগত স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে সেনাদল পাঠাতে চান। তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভেনিজুয়েলাতে আমরা যা করেছি, ইরানের ক্ষেত্রেও তা করতে চাই। লক্ষ্য হলো ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং তেল সম্পদকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, এবং এমন একটি শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যা আমাদের সহযোগিতা করবে।’

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ইরানে স্থল সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকেও বিপজ্জনক। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জোয়েল রেবার্ন বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ। লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা যায়, কিন্তু পূর্ণ অভিযান পরিচালনা করা সহজ নয়।’

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সিনিয়র পরিচালক বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, ইরানবিরোধী ‘ভেনিজুয়েলা মডেল’ বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জের। কারণ ইরান শুধু সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা বিষয়েও যুক্ত। ইরান ব্যর্থ রাষ্ট্রের মতো হয়ে গেলে তা পারমাণবিক বিপদের সূচনা করতে পারে।

ইরানবিরোধী ছয়টি কুর্দি গোষ্ঠী একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করেছে। এদের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটানো। তারা সীমান্ত পার হয়ে ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু তাদের জন্য ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি হটানো সহজ নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন হলে দেশটির জন্য মহাবিপর্যয় অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা এই সিদ্ধান্ত নিক। আমরা তাদের অপেক্ষা করছি এবং তারা যদি প্রবেশ করে, আমরা তাদের ওপর মহাবিপর্যয় চাপিয়ে দেব।’

এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে স্থল অভিযানের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। যদিও হোয়াইট হাউস জানাচ্ছে, এটি এখন পর্যন্ত মূল পরিকল্পনার অংশ নয়, তবে প্রেসিডেন্টের টেবিলে সক্রিয়ভাবে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক এবং সামরিক নীতি দুই দিক থেকেই একটি শক্ত বার্তা প্রেরণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত