প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন টানা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ এবং দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপের প্রভাবে এই অস্থির আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
মঙ্গলবারও আবহাওয়া অধিকাংশ অঞ্চলে একই রকম থাকবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রবণতা বজায় থাকবে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। বৃহস্পতিবারও পূর্বাভাস অনুরূপ, তবে দিনে সামান্য উষ্ণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সিলেট বিভাগের কিছু জায়গা এবং দেশের অন্যান্য বিভাগে দু-এক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের শেষের দিকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সময়ে নদী ও খালবিলের পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা থাকতে পারে। অতএব সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টি সম্ভাবনার কারণে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটিসহ শহুরে ও গ্রামীণ এলাকায় ক্ষতি হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং প্রয়োজনে বাড়ি বা অফিসের বাইরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বের না হতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৈকত, নদী তীরবর্তী এলাকা এবং নিম্নভূমি অঞ্চলের মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এই ধরনের আবহাওয়া ঘূর্ণিঝড় বা বড় ধরনের বন্যা নয়, তবে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া নগর ও গ্রামীণ জীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে কৃষিকাজও প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে রোপিত ধান ও শাকসবজি ক্ষেতের জন্য এই ধরণের বজ্রসহ বৃষ্টি ক্ষতি করতে পারে। কৃষকদের আগাম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় আবহাওয়ার অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
সার্বিকভাবে, দেশের মানুষকে আগামী পাঁচ দিনের জন্য আবহাওয়া সচেতন থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অসুবিধা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ট্রাফিক জ্যাম এবং স্থানীয় ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, গণপরিবহন সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।