ভারত থেকে আজ দেশে আসছে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ২১ বার
ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহ বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে জ্বালানি জোগানে চলমান অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারত থেকে আজ দেশে পৌঁছাবে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। এ সরবরাহ বাংলাদেশ‑ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পাঠানো হবে বলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাঠানোর জন্য পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই এটি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের অভাব ও ক্রমশ বাড়তে থাকা ডিজেলের চাহিদা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশে পয়সা ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমিয়ে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে মৈত্রী পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজ আসা পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আগের সমঝোতা ও আলোচনা অনুযায়ী পাঠানো হচ্ছে, যা সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে জনতার চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ‑ভারত মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পটি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করার সক্ষমতা শুরুতে বছরভিত্তিক দুই লাখ মেট্রিক টন স্থাপন করা হয়েছিল। এরপর এটি ধাপে ধাপে দশ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাময়িক ধরে দুই লাখ মেট্রিক টনের সক্ষমতা থাকলেও গতকাল আয়োজিত আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী চার মাসে একত্রে পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এই পাওয়ারফুল সহযোগিতার প্রেক্ষিতে গত রোববার ঢাকা সিটি সেক্রেটারি ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ‑ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের সম্প্রসারণের প্রস্তাব তুলে ধরা হয় এবং উভয় পক্ষ উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ শৃঙ্খলা আরও দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল করার ব্যাপারে মত বিনিময় করেন। বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার পরই আজ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপ নেয় এবং এটি দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। বাণিজ্য, কৃষি এবং পরিবহন খাতে ডিজেল অপরিহার্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় চলমান সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে তা সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। এ কারণে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের জনজীবন ও অর্থনীতির সমন্বিত কাজে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিনিময় ও সমঝোতার মাধ্যমে এমন একটি সমাধান এনেছেন, যা দূর্গম অবস্থায় জনগণের সঙ্গে থাকা একটি কার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মৈত্রী পাইপলাইন থেকে ডিজেল সরবরাহের সম্প্রসারণের প্রস্তাব বাস্তবে রূপ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরের দিনগুলোতে আরও বড় সংখ্যক ডিজেল চালান আসার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের এই ডিজেল প্রবেশ কেবল সাময়িক চাহিদা মেটানো নয়, এটি একটি বৃহত্তর সহযোগিতার অংশ যেখানে স্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে সলেরিক ভর্তুকি, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ চেইনের চ্যালেঞ্জসহ নানা বিষয় মাথায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর ডিজেলটি পর্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে এবং এরপর সেখান থেকে এটি দেশের বিভিন্ন অংশে বিতরণ করা হবে। এটি দক্ষিণ, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের শিল্প, ট্রান্সপোর্ট ও কৃষি খাতগুলোতে জরুরি চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের চাপের মুখে রয়েছেন, তাদের জন্য আজকের এই সরবরাহ আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিপিসি কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই ডিজেল ডিপোতে পৌঁছানোর পর তা ঠিকসময়ে ও কার্যকরভাবে বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত কার্যক্রম ইতোমধ্যে জারি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক ও ডিপো কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়েই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে যাতে ডিজেল দ্রুতভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে যখন জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের উদ্যোগ ও দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে মৈত্রী পাইপলাইন একটি শক্তিশালী দিক হিসেবে কাজ করছে।

নিজেদের স্বার্থে অধিকাংশ সময়েই দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জ্বালানি সুরক্ষা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের ডিজেল সরবরাহও সেই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

এভাবে ঢাকায় আলোচনার পর আজ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সার্বিক পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক দিক তৈরি করেছে। সামঞ্জস্যপূর্ণ সহায়তা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ সম্প্রসারণ আগামিদিনে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরির পথ সুগম করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত