চট্টগ্রামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে সরকার: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
বাংলাদেশ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে এবং জনগণের কল্যাণের জন্যই কাজ করে আসছে। তিনি জানান, সীমিত অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যেও সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেছে এবং প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম নগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ হাজার ৭৭৫টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা জনগণের কাছে যে কমিটমেন্ট করেছি, জনগণের কল্যাণে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো পূরণ করতেই আমরা কাজ করছি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বলেছি দেশের উন্নয়নের সুফল যেন প্রত্যেক নাগরিকের ঘরে পৌঁছে। এবার সেটি বাস্তবায়ন করেছি।” তিনি আরও বলেন, নগরের এই ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণের জন্য সরকারি কর্মকর্তারা বিস্তারিত জরিপ করেছেন এবং সবচেয়ে হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সনাক্ত করে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এতে কোনো দলীয়করণ বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রভাব ছিল না।

অর্থমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্রের সম্পদ কেবল উপরের কিছু মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমাদের অর্থনীতির মূল কেন্দ্র হবে পিছিয়ে পড়া জনগণ, যারা যথেষ্ট অর্থনৈতিক সক্ষমতা রাখে না, তাদের ক্ষমতায়ন করা আমাদের মূল লক্ষ্য। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই প্রক্রিয়ার অংশ।”

তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রতীক। কার্ড প্রাপ্ত পরিবারদেরকে কোনো মাধ্যমে যেতে হয়নি, সরকারি উদ্যোগে সঠিকভাবে সুবিধাভোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। মন্ত্রী যোগ করেন, “আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছি। জনগণ যেন সরাসরি সরকারের কার্যক্রমের সুফল পায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা সব পদক্ষেপ নিয়েছি।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মতো প্রকল্পও সরকারের আওতায় এসেছে। ইতিমধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যা দরিদ্র কৃষকদের জন্য কার্যকর হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বিএনপি প্রথম কোন সরকার যারা নির্বাচনি কমিটমেন্ট এক মাসের মধ্যে শুরু করেছে এবং তা বাস্তবায়নও করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তারা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমকে অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে নিজের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের অভিজ্ঞতাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “অনেক প্রকল্প করেছি, অনেক কাজ করেছি। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আমার রাজনৈতিক জীবনের একটি মাইলস্টোন। এটি দেশের জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা প্রদর্শনের একটি জ্যোতির্ময় উদাহরণ।”

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগণকে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া। মন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতে হতদরিদ্রদের জন্য আসা সমস্ত প্রকল্প স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণের সুযোগ থাকবে না। জনগণ সরাসরি সুবিধা পাবে।”

অর্থমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল প্রত্যেক নাগরিকের ঘরে পৌঁছানো। এখন আমরা দেখিয়েছি, সঠিক নেতৃত্ব এবং সুসংগঠিত পরিকল্পনার মাধ্যমে যেকোনো প্রকল্প দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও যোগ করেন, “সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। আমাদের সীমিত অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যেও জনগণের কল্যাণে কাজ করা সম্ভব হয়েছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত