নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতার ব্যবসায় হামলায় কর্মী গুরুতর জখম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
নারায়ণগঞ্জ যুবদল হামলা ঘটনা

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে কুতুবপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা সংঘটিত হয়। হামলায় রিপন (২৮) নামের যুবদল কর্মীকে ছুরিকাঘাত করে তার হাতের কবজি অর্ধেক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। আহত কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কুতুবপুর ইউনিয়ন ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আল আমিন অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণে তার ওপর পূর্ব থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, ‘মঙ্গলবার দুপুরে ইসমাইল দলবল নিয়ে আমাকে মারধর করেন। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ইট-বালুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দোকানের সাটার কুপিয়ে ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা লুটে নেয়। বাধা দিতে গেলে কর্মী রিপনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।’

আল আমিন আরও বলেন, ‘রিপনের হাতের কবজি ঝুলে যাওয়ায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা ও ব্যবসায়ী সহকর্মীরা হামলার পর তৎক্ষণাত তাকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেছেন।’ ঘটনার পর কুতুবপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

অপরপক্ষের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইসমাইল হোসেন পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘ভারত থেকে চোরাই পথে আনা চকলেটের একটি ট্রাক আটকানো হলে আল আমিন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তার নিজের সহযোগীরাই ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালিয়েছে। আমার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি গুরুতর ঘটনা। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের তদন্ত চলছে এবং হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

এই ধরনের সহিংস ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যবসায়িক স্বার্থের লড়াইয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আরও সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

নারায়ণগঞ্জের মত শহরগুলোতে রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ কখনো কখনো ব্যবসায়িক তাগিদ ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সহিংসতায় রূপ নিলে সাধারণ মানুষই তার সরাসরি প্রভাব অনুভব করে। আল আমিনের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রায়শই রাজনৈতিক সংঘাতের শিকার হন, যার ফলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হয়।

স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই এই ধরনের সংঘাত দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা প্রদানে সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত