গোপালগঞ্জে আবারো যাবো—হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৫ বার
গোপালগঞ্জে আবারো যাবো—হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার দলীয় অবস্থান ও রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকালে নিজের ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমরা আবারো গোপালগঞ্জে যাবো।”

তার বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতিধ্বনিত হয়েছে গোপালগঞ্জে এনসিপির অবস্থান এবং সেখানকার অধিবাসীদের প্রতি দলের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা। তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জ নিয়ে আমাদের অবস্থান গতকালের বক্তব্যেই পরিষ্কার বলা হয়েছে। পুরা বাংলাদেশের প্রতি আমাদের যে কমিটমেন্ট, গোপালগঞ্জের প্রতিও আমাদের সে কমিটমেন্ট রয়েছে। গোপালগঞ্জের অধিবাসীদের প্রতি রাজনৈতিক বৈষম্যের আমরা বিরোধিতা করি।”

নাহিদ ইসলাম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ যুগের পর যুগ ধরে গোপালগঞ্জের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলুষিত করেছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে অবিচার করেছে। তিনি বলেন, “আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা গোপালগঞ্জ ও পুরো বাংলাদেশকে মুজিববাদী সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করবো।”

তিনি দাবি করেন, এনসিপির কর্মসূচি ছিল পূর্বঘোষিত, শান্তিপূর্ণ এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে করা হয়েছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। “আমরা যুদ্ধের আহ্বান নিয়ে যাইনি, আমাদের পথসভায় আগেই ইনস্ট্রাকশন অনুসারে প্রবেশ করেছি এবং গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে পথসভা শেষ করে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়,”—যোগ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম এ হামলার জন্য সরাসরি আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল নয়, এটা এখন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। তারা সব সময় দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “৫ আগস্ট গণহত্যার পরেও আমরা বারবার বলেছি—আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর বিচার চাই। কিন্তু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হলেও জামিন পায়, পালিয়ে যায়, কিংবা থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের ভেতরে দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসররা বসে আছে।”

নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে চারজন মৃত্যুর খবরের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকে সমর্থন করি না। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সময়মতো পদক্ষেপ নিলে হয়তো এত বড় ঘটনা ঘটত না। এখন এই দায় সরকার ও প্রশাসনকেই নিতে হবে।”

শেষদিকে তিনি দাবি করেন, “আমরা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার চাই। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং শুধু গোপালগঞ্জ নয়—সারাদেশেই অভিযান চালাতে হবে।”

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই গোপালগঞ্জে কারফিউ, দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং এনসিপির পক্ষ থেকে চারজনের মৃত্যুর দাবি—পুরো ঘটনাকে করেছে উদ্বেগজনক। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের তরফ থেকে এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত