হাতিয়ায় ধর্ষণ অভিযোগ ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৭

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
হাতিয়া ধর্ষণ অভিযোগ বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে আয়োজিত পৃথক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে দুই পক্ষের কর্মীরা মুখোমুখি হয়ে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌরসভা যুবদল নেতা আশিক এবং সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরদিকে হাতিয়া উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিনও আহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৮ মার্চ দুপুরে। ওই দিন হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফারহান-০৪ নামের একটি লঞ্চে একটি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীকে তার বাবা লঞ্চের একটি কেবিনে তুলে দেন। একই সময় অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠুও ওই লঞ্চে ওঠেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, লঞ্চ যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তরা ওই শিক্ষার্থীর কেবিনের দরজায় কড়া নাড়ে এবং কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। শিক্ষার্থীটি এতে রাজি না হলে তারা তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে রাতের দিকে অভিযুক্তরা আবারও কেবিনে প্রবেশ করে এবং একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ভুক্তভোগীর জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায় এবং পরবর্তীতে তিনি গুরুতর মানসিক ও শারীরিক আঘাত নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে। সোমবার সকালে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। তারা হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে এনসিপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।

গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভ মিছিলও সেই দাবির অংশ হিসেবেই আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে পৃথক কর্মসূচি থেকে সংঘর্ষের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির উদ্দিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালে দুই পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুতর অপরাধের বিচার দাবি করতে গিয়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষ সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, এমন ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি, যাতে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পায় এবং সমাজে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে যায় যে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে ভুক্তভোগীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে। হাতিয়ার ঘটনাটি সেই বাস্তবতারই একটি করুণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনার তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া এখন দেশের মানুষের নজরে রয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত