ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন, স্পিকারকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে। আগামীকাল বেলা ১১টায় শুরু হতে যাচ্ছে এই অধিবেশন, যেখানে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর তাদেরকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বুধবার দুপুরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে। সেখানে নতুন সংসদের কার্যক্রম, সংসদীয় নেতৃত্বের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন সব সময়ই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই অধিবেশনের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এবং সংসদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদগুলো পূরণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সংসদীয় কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও জানান, অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংসদ নেতা স্বাগত বক্তব্য দেবেন এবং সংসদের সভাপতিত্বের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন। এরপর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাদেরকে শপথ পড়াবেন এবং এরপর থেকেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

সংসদীয় ব্যবস্থায় স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পিকার সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করেন, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সময় নির্ধারণ করেন এবং সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম তদারকিতেও স্পিকারের ভূমিকা থাকে। ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন সংসদের কার্যক্রম জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। নতুন সংসদের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার স্মৃতি এবং শহীদদের আত্মত্যাগের বিষয়টিও সংসদের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, সেগুলোকেও সংসদের কার্যক্রমে প্রতিফলিত করার চেষ্টা থাকবে। তার মতে, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে এগিয়ে গেলে দেশের উন্নয়ন আরও দ্রুত সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ এই অধিবেশনেই সংসদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। স্পিকার নির্বাচন থেকে শুরু করে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণ—সবকিছুই এই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

তারা মনে করেন, নতুন সংসদের কার্যক্রম কতটা কার্যকর হবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে সংসদের নেতৃত্ব এবং সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর। যদি সংসদে গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্কের পরিবেশ বজায় থাকে, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হয়।

এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংসদ ভবনের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে।

সংসদের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হবে। অনেক সংসদ সদস্যই আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি কার্যকর সংসদই পারে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের সমস্যা ও দাবিগুলোকে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তুলে ধরতে। তাই নতুন সংসদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

সামগ্রিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং এরপর ধীরে ধীরে আইন প্রণয়ন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে যাবে।

দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নতুন সংসদের কার্যক্রম যদি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তাহলে তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন সবার দৃষ্টি আগামীকালের অধিবেশনের দিকে, যেখানে নতুন সংসদের পথচলার সূচনা ঘটবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত