প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে স্পিকারের দায়িত্বে শপথ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বেলা ১১টায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেন।
অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করানোর মাধ্যমে স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জাতীয় সংসদের এই প্রথম অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ ভবনের দর্শক সারিতে দেখা যায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে, সেনাপ্রধান ওয়াকার–উজ–জামানকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে এবং নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানদের। তাদের উপস্থিতি সংসদের ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশের স্বাক্ষর বহন করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতিত হওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেন। এরপর দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন হয়। নির্বাচনের ফলাফলে সরকারপ্রধান বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, যা নতুন সংসদে তাদের শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় সংসদে অনুপস্থিত।
সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। সেই বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজকের অধিবেশন আহ্বান করেন। অধিবেশনটি শুধুমাত্র নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সরকারের নীতি-নির্ধারণ এবং সংসদীয় কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বে নতুন সংসদে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে। স্পিকারের নেতৃত্বে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ই সংসদে গঠনমূলক সংলাপ এবং নীতিমালা সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে পারবে।
অধিবেশনের মাধ্যমে নতুন সংসদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন এবং তাদের উপস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দৃঢ়তা প্রদর্শন করছে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা ও নতুন সংসদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
নতুন সংসদে সরকারের নীতি প্রণয়ন, আইন প্রণয়ন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকারের নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিরোধী দলের সমালোচনা ও পরামর্শ সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জনগণের আস্থা ও আস্থাভাজন সরকারের জন্য সহায়ক হবে।
অধিবেশনের দিনটি শুধুমাত্র সংবিধানগত কর্তব্য পালন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের উপস্থিতি, রাষ্ট্রপতি ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই অধিবেশনকে মর্যাদাপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল পরিপ্রেক্ষিত প্রদান করেছে।