জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ: শফিকুর রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
জুলাইয়ের রক্তের ওপর সংসদ

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রথম দিনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদকে ঘিরে এক আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন স্পিকার সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন এবং সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করবেন না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরতির পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শফিকুর রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান এবং সংসদ পরিচালনায় তাদের সফলতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, “আজকের এই সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ। এই সংসদের প্রতি দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন এবং ত্যাগের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই সংসদের প্রতি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে।

স্পিকারের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে স্পিকার ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি তার দলের স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি এখন সবার প্রতিনিধি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “এখন আপনি সবার। আপনার কাছে সরকারি দল বা বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না। আমরা আশা করি, আপনার কাছ থেকে আমরা সুবিচার পাব।”

তার বক্তব্যে সংসদের ভেতরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্বও উঠে আসে। তিনি বলেন, সংসদ হলো এমন একটি জায়গা যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং জনগণের সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা হয়। তাই বিরোধী দল হিসেবে তারা যেন দেশের কল্যাণের কথা বলতে পারে এবং তাদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ পায়—এ প্রত্যাশাও তিনি স্পিকারের কাছে ব্যক্ত করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে নতুন সংসদে তরুণ সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এবারের সংসদে অনেক তরুণ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক দিক। নিজেকেও তিনি তরুণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এখানে অনেক তরুণ সদস্য এসেছে। বয়স একটু বেশি হলেও আমিও তরুণ। আমার জীবনে এটিই প্রথম সংসদ।”

তার এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হাস্যরসের পরিবেশও তৈরি হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, তরুণদের অংশগ্রহণ সংসদকে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল করে তুলবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি স্পিকারের ব্যক্তিগত পরিচয় ও অতীত অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, নবনির্বাচিত স্পিকার একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য তার অবদান রয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি সংসদ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। আপনি পারবেন।” স্পিকারের প্রতি তার এই আস্থা ও প্রত্যাশা সংসদে একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত দেয়। বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে জানান, তারা স্পিকারের কাছ থেকে কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, বরং ন্যায্যতা ও ইনসাফ চান।

তার বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংসদে বিরোধী দলের কথা বলার সুযোগ থাকতে হবে এবং দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য একটি উন্মুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। বক্তব্যের একেবারে শেষে তিনি ন্যায্যতার দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার চাই।”

সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক কেমন হবে, সংসদের ভেতরে বিতর্ক ও আলোচনা কতটা প্রাণবন্ত হবে—এসব প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্যকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন। বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি যেমন সরকারের প্রতি সরাসরি আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেননি, তেমনি সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।

জাতীয় সংসদের নতুন এই অধিবেশন দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংসদের ভেতরে আলোচনা, সমালোচনা এবং নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য সেই প্রত্যাশাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত