জাতীয় স্মৃতিসৌধে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৪০ বার
জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পিকার শ্রদ্ধা

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শুক্রবার সকাল সোয়া দশটার দিকে দেশের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানালেন সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ফুল দিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। এরপরে তারা শেরে-বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এই ঘটনাটি দেশের ইতিহাস ও জাতীয় শ্রদ্ধার সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।

গত বৃহস্পতিবার সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে। প্রথম অধিবেশনে সংসদীয় নেতা তারেক রহমান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও পূর্ণ সমর্থন ছিল। এই অধিবেশনের মধ্য দিয়ে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম স্পিকার হিসেবে প্রস্তাব করেন। খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম প্রস্তাবে সমর্থন জানান। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পেশ করলে তা ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ী হয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হন।

ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন নাটোরের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। প্রস্তাবে সমর্থন জানান আরেক সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম। সংসদের সভাপতি প্রস্তাবটি পেশ করার পর হ্যাঁ ভোটে জয়ী হয়ে কায়সার কামাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তাদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের শপথের মাধ্যমে তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এই প্রক্রিয়া দেশের সাংবিধানিক নিয়ম ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত করে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সংসদের নতুন নেতৃত্ব জনগণের কাছে দায়িত্বশীলতার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধার গুরুত্ব নতুনভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে এই শ্রদ্ধা প্রদর্শন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যেরও প্রতিফলন ঘটায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com