সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার
সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবিধান সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed। তিনি বলেছেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী কোনো ধরনের সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই। বিষয়টি ইতোমধ্যে আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের সংবিধান একটি সুস্পষ্ট কাঠামোর মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে। সেই কাঠামোর মধ্যে সংস্কার পরিষদ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিধান নেই। ফলে সাংবিধানিকভাবে এই পরিষদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। তাই এই মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো অবস্থান ঘোষণা করা সমীচীন নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধানের বিধানই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। তাই যেকোনো নতুন কাঠামো বা সংস্কার উদ্যোগ নিতে হলে তা সংবিধানের আলোকে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। তবে তিনি কোনো সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেননি। এ থেকেই স্পষ্ট হয় যে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সংসদই আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত আরেকটি বিষয় ‘জুলাই সনদ’ নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই সনদের ধারণা সরকার সমর্থন করে এবং এর বিভিন্ন দিককে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই সনদের বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধানের কিছু অংশে পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, “জুলাই সনদ আমরা ধারণ করি। তবে এর বাস্তব প্রয়োগের জন্য সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। সেই বিষয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা হবে।” তার মতে, যেকোনো বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা এবং ঐকমত্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। কারণ সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হয়।

সংসদের ভেতরের বিভিন্ন সাংবিধানিক পদ নিয়েও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তাদের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তারা দল থেকে পদত্যাগ করেননি, বরং দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

তার মতে, সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যই তারা দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যাতে সংসদ পরিচালনায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতা সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংসদে সব দলের মতামত তুলে ধরার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বিতর্ককে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা তাদের অন্যতম দায়িত্ব।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংস্কার, সংস্কার পরিষদের বৈধতা এবং সংসদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিস্তৃত আলোচনা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। কারণ সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো প্রভাবিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই—এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আগামী দিনে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে এই প্রশ্নের একটি সুস্পষ্ট সমাধান সামনে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত