প্রকাশ: ১৭ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইসরাইলের ভেতরে তিনটি স্পর্শকাতর এবং কৌশলগত স্থাপনায় একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী। বুধবার (১৬ জুলাই) ইয়েমেনের হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতির মাধ্যমে এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মেহের’ হুথিদের এই সামরিক অভিযানের খবর প্রথম প্রকাশ করে।
হুথি যোদ্ধাদের বিবৃতিতে জানানো হয়, লক্ষ্যবস্তু তিনটি হলো—ইসরাইলের প্রধানতম বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনা এবং অধিকৃত এলাকা ইলাতে ইসরাইলের একমাত্র লোহিত সাগরবন্দর। এই স্থানগুলোতে একটির পর একটি হামলা চালানো হয় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে।
ব্রিগেডিয়ার সারি জানান, প্রথম হামলায় ‘জুলফিকার’ নামক একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বেন গুরিওন বিমানবন্দরে আঘাত হানা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণ এতটাই সুনির্দিষ্ট ছিল যে এতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ‘লাখ লাখ’ মানুষ আতঙ্কে আশ্রয়কেন্দ্রে পালাতে বাধ্য হয়।
পরবর্তী দফায় ইসরাইলি বিমানবন্দর, নেগেভের সামরিক ঘাঁটি এবং ইলাত বন্দরকে লক্ষ্য করে চারটি সশস্ত্র ড্রোনের মাধ্যমে একযোগে হামলা চালানো হয়। এই ড্রোনগুলো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয় বলে দাবি করেছে হুথি কর্তৃপক্ষ।
ইয়াহিয়া সারি আরও বলেন, “গাজায় আমাদের ভাইদের ওপর চলমান গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় আমরা এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছি। এটি আমাদের বৃহত্তর প্রতিরোধ যুদ্ধের অংশ মাত্র। ইসরাইলের অব্যাহত দখলদারিতা ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হলে আমরা আমাদের সামরিক তৎপরতা আরও বিস্তৃত করবো।”
এই হামলা এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো, যখন ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর ইলাত কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। ইয়েমেনি যোদ্ধাদের আরোপিত নৌ অবরোধের কারণে বন্দরটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল, যা সামরিক ও বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রে ইসরাইলের জন্য ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইলি সরকার এই অবরোধকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করলেও, হুথি নেতৃত্ব একে প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেখছে।
হুথিদের এই আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরাইল ও ইয়েমেনের মধ্যকার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে পুরো অঞ্চলজুড়ে সহিংসতার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এদিকে, ইসরাইল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ও বিমানবন্দরে আংশিক কার্যক্রম স্থগিতের খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাও মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত এই নতুন সামরিক সংঘাতের বিষয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।