দূষণে শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ু অস্বাস্থ্যকর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার
ঢাকার বায়ুদূষণ একিউআই অবস্থা

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, আর সেই তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলো। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ভারতের রাজধানী দিল্লি আবারও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। একই তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা-ও রয়েছে শীর্ষ দশের মধ্যে, যা নগরবাসীর জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা IQAir-এর তথ্য অনুযায়ী, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ১৫২। এই স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।

একই সময়ে দিল্লির একিউআই স্কোর ছিল ২০৩, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অবস্থায় বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়। দিল্লির এই অবস্থান নতুন কিছু নয়; দীর্ঘদিন ধরেই শহরটি বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যেখানে একিউআই স্কোর ১৭৯। একই দেশের আরেক শহর করাচি ১০২ স্কোর নিয়ে তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এখনো সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ভারতের আরেক বড় শহর কলকাতা ৭৮ স্কোর নিয়ে তালিকার ২৮ নম্বরে অবস্থান করছে, যা ‘মাঝারি’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। এতে বোঝা যায়, একই দেশের ভিন্ন শহরে দূষণের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

শীর্ষ দশের তালিকায় আরও রয়েছে চীনের বেইজিং, সৌদি আরবের রিয়াদ, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন ও সিউল, উগান্ডার কাম্পালা, নেপালের কাঠমান্ডু এবং কিরগিজস্তানের বিশকেক। এসব শহরের উপস্থিতি প্রমাণ করে, বায়ুদূষণ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যা উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় ধরনের দেশকেই সমানভাবে প্রভাবিত করছে।

ঢাকার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ কিছুদিন আগেও শহরটির বায়ুমান কিছুটা উন্নতির দিকে ছিল। কিন্তু আবারও দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং শুষ্ক মৌসুমের ধুলাবালি—এসব কারণ মিলিয়ে ঢাকার বায়ুমান দ্রুত খারাপ হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের জন্য এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

বায়ুমান সূচকের নির্ধারিত মান অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোরকে ভালো ধরা হয়, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মানদণ্ড অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকার অবস্থান সাধারণ মানুষের জন্যও সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন। শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, বরং নগর পরিকল্পনা, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা গ্রহণের মতো বিষয়গুলোতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

বিশ্বজুড়ে যখন বায়ুদূষণ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে, তখন ঢাকার বর্তমান অবস্থান একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, দিল্লির শীর্ষ অবস্থান এবং ঢাকার শীর্ষ দশে থাকা—এই দুই তথ্যই প্রমাণ করে, দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলো এখন বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত