প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলে পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষিকাজে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ষার পানি ধরে রেখে তা সেচ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে দিনাজপুর শহরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারের খাল খনন কর্মসূচি ইতোমধ্যে দিনাজপুর অঞ্চল থেকে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তৃত করা হবে। তাঁর ভাষায়, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক উৎসের পানি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং অনেক এলাকায় পানিতে আয়রনের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এতে কৃষিজমি আবাদে সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং পানির মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
সমাবেশে তিনি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহায়তা পাবেন, তবে যাঁদের প্রয়োজন বেশি, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দেড় দশকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময়ের সমস্যা অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নয়ন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কেবল তাদের জন্য নয় যারা ভোট দিয়েছেন, বরং পুরো দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে তা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়নের ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাধার পুনরুদ্ধার এবং সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন একসঙ্গে করা গেলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ফসলের ফলন বাড়বে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনমানও উন্নত হবে।
সব মিলিয়ে দিনাজপুরে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেশের কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং বাস্তবে কতটা সুফল পাওয়া যায়, সেটিই দেখার বিষয়।