শিক্ষার্থীদের ‘যোদ্ধা’ হতে আহ্বান জামায়াত আমিরের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
শিক্ষার্থীদের ‘যোদ্ধা’ হতে আহ্বান

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যসূচিভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একজন ‘যোদ্ধা’র মতো নিজেকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় সফল হতে পারে এবং দেশ ও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সোমবার বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়; বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সময়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তা’মীরুল মিল্লাত প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন শিক্ষার্থী তৈরি করা, যারা ধর্মীয় মূল্যবোধে দৃঢ়, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ হবে। তিনি দাবি করেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রতিষ্ঠানের তিনজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গৌরবের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উঠে আসা তরুণরাই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের দক্ষতা ও নৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও তারা ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রদূত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা আতিকুর রহমান। এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী ও হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, বাস্তব দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা অর্জন করাও জরুরি। প্রযুক্তিনির্ভর যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো গুণাবলি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ধরনের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ সমাজকে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি এখন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা বলছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয় প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, গাজীপুরে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও আত্মপ্রস্তুতির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই নিজেকে দক্ষ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত