প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের লাখো মানুষের ঘরে ফেরার যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জ্বালানি সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, পাবলিক পরিবহনে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি তৈরি না হয়।
মঙ্গলবার সকালে গলাচিপা-এ রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘রাবনাবাদ সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আমরা বিশেষভাবে তেল সরবরাহের দিকে নজর দিয়েছি। সরকার পর্যায়ক্রমে সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা দেশের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তবুও জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেষ্ট রয়েছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের সময় যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহন যেন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
এ সময় তিনি সরকারের স্বল্প সময়ের কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “আমরা মাত্র ২৫ দিনের একটি সরকার। তবুও সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তার এই বক্তব্যে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। বর্তমানে নদী পারাপারে যে সময় ও খরচ ব্যয় হয়, সেতু নির্মাণের পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি পণ্য পরিবহন সহজ হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি অঞ্চলের উন্নয়ন তখনই সম্ভব হয়, যখন সেখানে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। রাবনাবাদ সেতু সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নদী পারাপারে ঝুঁকি ও সময়ক্ষেপণ তাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল। সেতু নির্মাণের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে সরকারের এই আশ্বাস সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি এনে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে পরিবহন ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সময় জ্বালানি সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই আগাম পরিকল্পনা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, সরকারের এই উদ্যোগ এবং মন্ত্রীর আশ্বাস দেশের মানুষের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ঈদের আনন্দ যাতে যাত্রাপথের ভোগান্তিতে ম্লান না হয়ে যায়, সে লক্ষ্যে নেওয়া এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের স্বস্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের অন্যতম শর্ত হলো নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা। সরকারের এই উদ্যোগ সেই প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।