প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দায়িত্ব বণ্টনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে বণ্টন করা হয়েছে, যাতে প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ধরনের শূন্যতা তৈরি না হয়।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-কে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনি জাতীয় সংসদ কার্যক্রমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যা তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক পোস্টে তুলে ধরেন।
সরকারি সূত্র জানায়, এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। যখনই প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে অবস্থান করেন বা কোনো কারণে দায়িত্ব পালন করতে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকেন, তখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা হয় এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো বিলম্ব হয় না।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নীতি সমন্বয় এবং প্রশাসনিক তদারকি তার অধীনেই পরিচালিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দায়িত্ব বণ্টন শুধু প্রশাসনিক প্রয়োজন থেকেই নয়, বরং সরকারের ভেতরে সমন্বয় ও আস্থার প্রতিফলনও বহন করে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, মন্ত্রিপরিষদ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্ব একসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর অর্পণ করা একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার প্রতি আস্থা রয়েছে এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও তিনি দায়িত্ব পালনে সক্ষম বলে বিবেচিত।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর, বিল উত্থাপন এবং আলোচনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে এই দায়িত্ব বণ্টন সংসদীয় প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে সহায়ক হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসে, অন্যদিকে নেতৃত্বের বিকল্প প্রস্তুতিও তৈরি হয়। ফলে হঠাৎ কোনো পরিস্থিতিতে প্রশাসন অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে না।
এদিকে সাধারণ জনগণের মধ্যেও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিকল্পিত কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব বণ্টনের এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতটা দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন এবং এই ব্যবস্থাপনা বাস্তবে কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়