প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যখন দেশের বেশিরভাগ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে কোনো বিরতি নেই। রাজধানীর গুলশান এভিনিউর বাসভবন থেকেই জরুরি সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছুটির মধ্যেও প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার এই চিত্র সরকারি কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার এক ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। বরং রাজধানীর বাসভবনে অবস্থান করেই তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। তার ভাষ্যমতে, দেশের কোথায় কী ঘটছে, কোন খাতে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অবহিত হচ্ছেন।
বিশেষ করে সারা দেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছেন, কোথায় কাজ চলছে, কোথায় অগ্রগতি ধীর, এবং কোথায় তদারকির ঘাটতি রয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হওয়ায় এই বিষয়ে তার সরাসরি নজরদারি প্রশাসনিক গুরুত্বেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়েও খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ঈদকে সামনে রেখে নগরজীবনে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মেয়র ও প্রশাসকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
ঈদযাত্রা ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে রয়েছে। ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। সড়ক, নৌ ও রেলপথে যাত্রীদের চাপ, যানজট, দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিন মঙ্গলবারও প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে গেছেন। ওইদিন তিনি সচিবালয়ে উপস্থিত থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। এর মধ্যে কৃষি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভা এবং মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকও ছিল। এতে স্পষ্ট হয় যে, সরকারি ছুটি শুরু হলেও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা তৈরি হয়নি।
ঈদের ছুটি সাধারণত দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা শিথিলতা নিয়ে আসে। তবে এবার সেই প্রচলিত চিত্রে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকির ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন রয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে করে জরুরি সেবা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গতি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, ছুটির মধ্যেও এ ধরনের সক্রিয় তদারকি মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় ছুটির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেলেও এবার তা কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই নজরদারি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়ায়, অন্যদিকে জনগণের মধ্যে আস্থাও তৈরি করে। দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী ব্যক্তি ছুটির মধ্যেও দায়িত্ব পালনে সক্রিয় থাকলে তা একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটির সময়েও প্রধানমন্ত্রীর এই সক্রিয় ভূমিকা দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সচল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এটি শুধু দায়িত্ববোধের প্রকাশ নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা ও নজরদারির গুরুত্বও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।