ঢাকাসহ ১২ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৩ বার
ঝড়ের শঙ্কা

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১২টি জেলায় হঠাৎ করেই ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা জনজীবন ও নৌপথে চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ঝড়ো আবহাওয়া আঘাত হানতে পারে। সংশ্লিষ্ট ১২টি জেলার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং সিলেট।

আবহাওয়া অধিদফতরের মতে, এই সময়ে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পারে এবং হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। বিশেষ করে নদীবন্দরসংলগ্ন এলাকায় ঝুঁকি বেশি থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সতর্কবার্তায় উল্লিখিত জেলার নদীবন্দরগুলোকে ‘২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত’ দেখাতে বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। মাঝি-মাল্লা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চৈত্র মাসে এমন আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখী ঝড় নতুন কিছু নয়। তবে এই সময়ের ঝড়গুলো সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ফলে আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে বেশি।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি পরিবর্তনের এই সময়টিতে বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতা বেড়ে যায়। দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকায় সন্ধ্যা বা রাতের দিকে হঠাৎ করে মেঘের সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে বজ্রসহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াই কালবৈশাখী ঝড়ের প্রধান কারণ।

বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোর জন্য এই ধরনের আবহাওয়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জেলেদের নদীতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং যারা ইতোমধ্যে নদীতে আছেন তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।

শহরাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ায় গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পুরনো বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করা হবে। এই সময়ে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আকস্মিক এই ঝড়ো আবহাওয়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তবে যথাযথ সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা গেলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত