প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আজ বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব কিডনি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হবে। প্রতি বছরের মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এই দিবসটি পালন করা হয়। চলতি বছরের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণিরে’, যা কিডনি স্বাস্থ্য ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসংস্থা ও সংগঠন এই দিন উপলক্ষে বিভিন্ন জনসচেতনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কিডনি রোগের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে। এই ক্যাম্পে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা বিনামূল্যে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবেন, যাতে কিডনি সমস্যার প্রাথমিক চিহ্নগুলো সনাক্ত করে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
বিশ্বের প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে এই সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখের কাছাকাছি। দারিদ্র্য, অপ্রচলিত জীবনধারা, চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা এবং অসচেতনতা এই রোগের বিস্তার বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, নেফ্রাইটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার, জন্মগত ও বংশগত কিডনি রোগ এবং মূত্রনালি বা পাথুরে সমস্যাগুলো কিডনি রোগের মূল কারণ।
প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হন। এর পাশাপাশি প্রতি বছর ৩০–৪০ হাজারের বেশি রোগীর কিডনি বিকল হয়ে যায়। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা চিকিৎসা না পাওয়ায় জীবন হারান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কিডনি রোগের কারণে মৃত্যুর স্থান বিশ্বব্যাপী অষ্টম এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থানে পৌঁছাবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, কিডনি রোগের বিস্তার রোধের জন্য জীবনধারার পরিবর্তন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়াম কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়ক।
বিশ্ব কিডনি দিবস মানুষের কাছে কেবল স্বাস্থ্য সচেতনতার আহ্বান নয়, এটি সমাজ ও সরকারকে কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব উপলব্ধি করানোর দিনও বটে। স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকরা ব্যক্তিগত জীবনেই ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন এবং সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারেন।
এছাড়াও, দিবসটি কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ যেমন শারীরিক ফোলা, ঘন ক্ষুধা, ক্লান্তি, প্রস্রাবের সমস্যার প্রতি মানুষকে সচেতন করারও এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার মনে করিয়ে দেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ চিহ্নিত হলে জীবনঘাতী ফলাফল এড়ানো যায়।
এভাবে বিশ্ব কিডনি দিবস বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে কিডনি স্বাস্থ্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সুস্থতার বিষয় নয়, এটি সমগ্র সমাজের জনস্বাস্থ্য রক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত। সচেতনতা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণের মাধ্যমে কিডনি রোগের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কমানো সম্ভব।