শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, শনিবার ঈদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় দেশজুড়ে আরও একদিন রমজানের সিয়াম সাধনা পূর্ণ করে শনিবার উদ্‌যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে একদিকে যেমন ইবাদতের শেষ প্রস্তুতি, অন্যদিকে ঈদ আনন্দের অপেক্ষা আরও একদিন দীর্ঘ হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং স্পারসো থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। এসব উৎস থেকে প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণে কোথাও চাঁদ দেখা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং শনিবার থেকে শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, শনিবারই সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

রমজানের শেষ দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। দীর্ঘ এক মাসের সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের পর ঈদ যেন আনন্দের এক বিশেষ উপলক্ষ হয়ে ওঠে। তবে এবার একদিন দেরিতে ঈদ হওয়ায় অনেকের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবুও সার্বিকভাবে মানুষের মাঝে ঈদকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে এখন ঈদের আমেজ স্পষ্ট। কর্মব্যস্ত নগরজীবন ছেড়ে লাখো মানুষ গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই আগেভাগেই যাত্রা শুরু করলেও শেষ মুহূর্তেও বাড়ি ফেরার চাপ কমেনি।

অন্যদিকে, নগরীর বিপণিবিতান ও বাজারগুলোতে কেনাকাটার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনীসহ নানা পণ্যের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ছে। ছোটদের জন্য ঈদ যেন বিশেষ আনন্দের সময়, তাই অভিভাবকেরা তাদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এদিকে, ঈদের জামাত আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায়, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদগাহে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মুসল্লিদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও ঈদকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের বার্তায় ঈদের শিক্ষা ধারণ করে পারস্পরিক সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি উৎসব। এক মাস সিয়াম সাধনার পর আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাধ্যমে অর্জিত পবিত্রতার অনুভূতি নিয়ে ঈদের দিন উদ্‌যাপন করা হয়। নামাজ আদায়, যাকাতুল ফিতর প্রদান এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে এই দিনটি বিশেষ মর্যাদা পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদ দেখা নির্ভর করে ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন উপাদানের ওপর। তাই অনেক সময় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চাঁদ দেখা গেলেও বাংলাদেশে দেখা যায় না। এ কারণেই প্রতিটি দেশের নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি স্থানীয় তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।

এবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশের সর্বস্তরের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে চাঁদ দেখা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় বিধান ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, আর মাত্র একদিন পরেই আসছে বহুল প্রতীক্ষিত ঈদ। শেষ রোজার ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানরা প্রস্তুত হচ্ছেন আনন্দের এই বিশেষ দিনকে স্বাগত জানাতে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দ, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং ধর্মীয় অনুভূতির এক অনন্য মেলবন্ধনে উদ্‌যাপিত হবে এবারের ঈদুল ফিতর।

ঈদের এই আনন্দ যেন সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে—এই প্রত্যাশায় দেশবাসী অপেক্ষা করছে শনিবারের সূর্যোদয়ের জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত