প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরে একই জামাতে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উৎসবের আনন্দ উদযাপনের মধ্যেও আবহাওয়া হতে পারে এক অপ্রত্যাশিত বাধা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাতীয় ঈদগাহের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে দু’মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শ্রমিক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীরা প্যান্ডেল তৈরি, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। এবারের আয়োজনকে আরও বড় ও ভিন্ন মাত্রার করার জন্য প্যান্ডেলের প্রতিটি কোণ সূক্ষ্মভাবে সাজানো হয়েছে।
এবারের ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আব্দুল মালেক, যিনি বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব। প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও কূটনৈতিক কোরের প্রায় ৩৩০ জন বিশিষ্ট অতিথির জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মূল প্যান্ডেলে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং আশপাশের খোলা জায়গা ও সংলগ্ন সড়ক মিলিয়ে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখের কাছাকাছি।
নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দুটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। মুসল্লিদের জন্য কড়া নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে যাতে বড় এই ঈদ জামাত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, প্যান্ডেলের ভেতরে নামাজের কাতারগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। পুরো মাঠে মোট ১২১টি কাতার তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫টি বড় আকারের এবং ৫৬টি ছোট আকারের। মূল প্যান্ডেলের মধ্যে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। প্যান্ডেলের অভ্যন্তরীণ স্থান পূর্ণ হলে আশপাশের খোলা জায়গা ও সড়কগুলোও ব্যবহৃত হবে, যাতে প্রায় ১ লাখ মুসল্লি অংশ নিতে পারেন।
বিশেষভাবে এবার সরকারি, কূটনৈতিক ও বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহে যানজট কমানোর জন্য ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
আবহাওয়ার কারণে যদি জাতীয় ঈদগাহে আয়োজন সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত। এতে অংশগ্রহণকারীরা একইসঙ্গে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশ অনুভব করবেন।
বিশাল এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় গুরুত্ব নয়, বরং দেশের ইতিহাসেও বিশেষ দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একই জামাতে মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ পড়ার মুহূর্তটি দেশের জনগণের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।