দুর্ঘটনায় জবাবদিহি দাবি বিরোধীদলীয় নেতার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিদিন। কুমিল্লার মর্মান্তিক ট্রেন-বাস সংঘর্ষ এবং ফেনীর পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার সকাল প্রায় ১০টা ৫২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে উঠে আসে শোক, উদ্বেগ এবং এক ধরনের কঠোর সতর্কতা—যেখানে তিনি মনে করিয়ে দেন, অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

শনিবার গভীর রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষ। একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়লে দ্রুতগতির ট্রেন সেটিকে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বাসটি। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।

অন্যদিকে রোববার ভোরে ফেনী সদর উপজেলার রামপুর এলাকায় আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনজন। গুরুতর আহত হন অন্তত পাঁচজন। দুইটি পৃথক ঘটনায় এমন প্রাণহানি জনমনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে শফিকুর রহমান বলেন, এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের ক্ষতি কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনাও করেন।

তার বক্তব্যে শুধু শোক নয়, ছিল তীব্র সমালোচনার সুরও। তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করেছে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা এবং সড়ক-রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। দায়িত্বশীলতার অভাব এবং তদারকির দুর্বলতা মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন দুর্ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান এক অব্যবস্থাপনার ফল। প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও বাস্তব পরিবর্তন খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, আর প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বিরোধীদলীয় নেতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করলেই চলবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না।

তার ভাষায়, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক দুর্ঘটনা দেশের পরিবহন খাতের দুর্বলতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ঘাটতি, সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন এবং তদারকির অভাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

এমন অবস্থায় রাজনৈতিক মহল থেকে জবাবদিহির দাবি জোরালো হওয়া স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে যদি অবহেলা বা ত্রুটি থেকে থাকে, তবে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে একই চক্র বারবার পুনরাবৃত্তি হবে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—শুধু শোক প্রকাশ নয়, বাস্তব পরিবর্তন। নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ নিশ্চিত করা যেন আর বিলম্বিত কোনো প্রতিশ্রুতি না হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো তাই কেবল দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে হয়তো ভবিষ্যতে এমন অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত