কথা বললে গুম হবে না, দাবি রিজভীর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে এবং এখন আর মত প্রকাশের কারণে কাউকে গুম হতে হবে না—এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন-এ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের প্রশ্ন এবং দলীয় অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বার্তা।

রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, এখন মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে এবং ভয়ের সংস্কৃতি অনেকটাই কমে এসেছে।

তার বক্তব্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাসের সুর ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তবে সেই মতভেদ যেন গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।

একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে “অবান্তর বক্তব্য” এবং “মিথ্যাচার” করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন রিজভী। তার ভাষায়, যারা বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, তারা মূলত ফ্যাসিবাদের লক্ষণ বহন করছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ইতিহাসে কখনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার নজির নেই। বরং দলটি সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলেও জানান তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্ব প্রসঙ্গেও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, তারেক রহমান যে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, সেই পথ ধরেই দল এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে তিনি আসন্ন বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি দেশের স্বাধীনতার চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিজভীর এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে তার মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে “গুম” ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল একটি বিষয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে রিজভীর এই মন্তব্য অনেকের কাছে আশাবাদী বার্তা হিসেবে দেখা হলেও, কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

সব মিলিয়ে, তার বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং বাস্তবে এর প্রতিফলন কতটা দেখা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত