গোমতী বাঁচাতে মাঠে এমপি হাসনাত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
এমপি হাসনাত

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার গোমতী নদী রক্ষায় জনসাধারণের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং নদী থেকে মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি সরাসরি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষীপুর এলাকায় গোমতী নদীর ব্রিজের ওপর মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি এক পর্যায়ে বড় সমাবেশে পরিণত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল নানা স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড—‘গোমতী বাঁচাও’, ‘মাটিখেকোদের না বলুন’, ‘নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দাও’। এই স্লোগানগুলো শুধু প্রতিবাদের ভাষা নয়, বরং নদী রক্ষার জন্য স্থানীয় মানুষের গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন।

এ সময় এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হন। তার উপস্থিতি কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। বক্তব্যে তিনি বলেন, গোমতী নদী এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদী বাঁচানো মানেই মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে নদী থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তীরবর্তী এলাকাগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি গোমতী নদীর মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চক্রটি মূলত রাতের আঁধারে মাটি কেটে তা বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়। ফলে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারাও একই অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

এই প্রেক্ষাপটে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একইসঙ্গে তিনি দেবিদ্বার এলাকায় কোনো অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। তার ভাষায়, “এ জন্য যা করার প্রয়োজন, তা-ই করা হবে।”

সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি একই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, গোমতী নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বড় পরিবেশগত সংকট। এতে নদীর গভীরতা ও প্রবাহ পরিবর্তিত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বন্যা, ভাঙন এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

স্থানীয়দের আশা, এবার হয়তো তাদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হবে। কারণ জনপ্রতিনিধির সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি পরিস্থিতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে বাস্তব চিত্র বদলাতে হলে শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর প্রয়োগই হবে মূল বিষয়। গোমতী নদী রক্ষায় এই আন্দোলন এখন একটি বড় পরীক্ষার মুখে—যেখানে সময়ই বলে দেবে প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব রূপ পায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত