এআই ব্যবহারে শিক্ষা বদলে যাবে: জুবাইদা রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮ বার
এআই ব্যবহারে শিক্ষা বদলে যাবে: জুবাইদা রহমান

প্রকাশ: ২৫ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষা অপরিহার্য। এজন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী Washington, D.C.-তে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি, ফার্স্ট জেন্টেলম্যান এবং সমমর্যাদার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শিশুদের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করাই ছিল সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

ডা. Zubaida Rahman তার বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তির একটি ক্ষেত্র নয়, বরং এটি এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এটি মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রেখে কাজে লাগে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তির ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা না গেলে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে আয়োজিত এই দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি Melania Trump। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে শিশুদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব সর্বাগ্রে রাখতে হবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতারা শিশুদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যেখানে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে শিশু ও পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়া যায়। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। এজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়টি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর নেতৃত্বে সদ্য-নির্বাচিত সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে কাজ করছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। ব্যক্তিগত সক্ষমতা অনুযায়ী পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, অনলাইন শিক্ষার প্রসার, দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ এবং গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষা আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে নীতিমালা প্রণয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা মত দেন, ভবিষ্যৎ বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তি তখনই সফল হবে যখন তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য কমানো সম্ভব, কারণ প্রযুক্তি দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তা শুধু শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে না, বরং একটি উদ্ভাবনী সমাজ গঠনে সহায়তা করবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ও উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। ডা. জুবাইদা রহমানও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রযুক্তির ইতিবাচক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের আলোচনা ও সহযোগিতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি টেকসই উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই যুগে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে হলে নীতি নির্ধারকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত