প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দ ও মানবিক সহায়তার ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে যেখানে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে, সেখানে তাঁর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই হিসাব বিবরণী এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রকাশ করেন। প্রকাশিত তথ্যে তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন কিভাবে সরকারি বরাদ্দের অর্থ বিতরণ করা হয়েছে এবং কারা এই সহায়তার আওতায় এসেছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি প্রশংসিত হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেবিদ্বারের দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা সম্পূর্ণরূপে সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। এই অর্থের আওতায় ১৫টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভার মোট ১৪৪টি ওয়ার্ডে বসবাসরত এক হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে এক হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এছাড়াও তিনি ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগে আরও ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন। এসব সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, চিনি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, যা ঈদ উদযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ফলে সরকারি বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা হিসেবে মোট ১ হাজার ৫০০ জন মানুষ এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।
তার ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, সহায়তার তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় বিবেচনা করা হয়নি। বরং প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বাস্তবভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক দরিদ্র মানুষ এই সহায়তার বাইরে থেকে গেছেন। তিনি বলেন, “প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে বরাদ্দ বাড়লে আরও বেশি মানুষকে সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা থাকবে।” তাঁর এই স্বীকারোক্তি সাধারণ মানুষের কাছে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রকাশিত তালিকায় সুবিধাভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং মোবাইল নম্বর আংশিক গোপন রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক যেকোনো তদন্ত বা অনুসন্ধানের প্রয়োজনে সম্পূর্ণ তথ্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এতে করে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি অন্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে এই পোস্টটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। অনেকেই এটিকে “গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার উদাহরণ” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, দেশের প্রতিটি জনপ্রতিনিধি যদি এভাবে নিজেদের কার্যক্রমের হিসাব প্রকাশ করতেন, তাহলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যেত।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকায় প্রকৃত দরিদ্র মানুষরা উপকৃত হয়েছেন। একইসঙ্গে তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেই সহায়তার হিসাব প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এই পদক্ষেপ বর্তমান সময়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি যদি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।