প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশ-বিদেশের চলমান অস্থিরতা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জনগণকে কোনো ধরনের আতঙ্ক বা গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনেক দেশই জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করছে। তবে বাংলাদেশে যাতে এর নেতিবাচক প্রভাব কম পড়ে, সে জন্য আগাম পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা, জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবেলার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, সরকার পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করছে। কোনো ধরনের গুজব বা আতঙ্কে না পড়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ শীর্ষক একটি আইনের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই তা উত্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, “এই আইনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আশা করছি, সংসদে আলোচনা শেষে এটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হবে এবং পরবর্তী অধিবেশনে অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি কিংবা বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময় জ্বালানি খাত সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে। কারণ জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় সরকার যদি সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে সম্ভাব্য সংকট অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হয়। মন্ত্রীর বক্তব্য সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি সংকট শুধু বিদ্যুৎ বা পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর প্রভাব পড়ে শিল্প উৎপাদন, কৃষি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ফলে এই খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে—এই বার্তাটি জনমনে আস্থা তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলন ঘিরে গণমাধ্যমের আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি, সম্ভাব্য লোডশেডিং, জ্বালানি আমদানির খরচ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করেন। মন্ত্রী তাদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
জনসাধারণের মধ্যে যাতে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকার নিয়মিতভাবে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ ও স্বচ্ছ অবস্থান জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সংকটকালীন সময়ে এমন বার্তা জনমনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়।
সবশেষে বলা যায়, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি খাতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। জনগণের প্রতি সরকারের আহ্বান—আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও ধৈর্যশীল থাকা—বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।