প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের দিকে ধাবিত হতে পারে। পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনার অগ্রগতি এবং ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ১০ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭.১৭ ডলারে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ০.৮ শতাংশ কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.১ শতাংশ কমে ৯৩.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও একদিন আগে যুদ্ধের তীব্রতার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছিল, পুরো সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী দাম কমতির দিকে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজার এখন সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনার উপর নির্ভর করছে। যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে, যদি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান আসে, তেলের মূল্য আরও কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে এই দাম পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এই সময়ের মধ্যে দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, ভোক্তা খরচ এবং শিল্প উৎপাদন প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এখন অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি ক্রেতাদের জন্য দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতার উপর নির্ভর করে মূল্য ভবিষ্যতে ওঠানামা করতে পারে। বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান সরবরাহ ও রাজনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি সবসময়ই তেলের দামকে প্রভাবিত করে।