হরমুজ দিয়ে পাকিস্তানের জাহাজ চলাচলে সম্মতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৪১ বার

প্রকাশ: ২৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর সামনে এসেছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা Strait of Hormuz দিয়ে পাকিস্তানের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar রোববার (২৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান পাকিস্তানের মোট ২০টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার সুযোগ দেবে। পাশাপাশি প্রতিদিন দুটি করে জাহাজ চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। এই প্রণালী দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ফলে এই পথ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।

বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এই প্রণালী ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানি করে থাকে। ধারণা করা হয়, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয় এবং অনেক দেশে তেলের দাম বেড়ে যায়।

ইরানের এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে, যাতে এই সংঘাত প্রশমিত হয়। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

আলোচনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধবিরতি বা কোনো ধরনের আলোচনা শুরুর আগে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন, যা বর্তমান কূটনৈতিক জটিলতার একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া বা আংশিকভাবে চালু রাখার সিদ্ধান্ত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, যা একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখবে। পাকিস্তানের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়াকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। আন্তর্জাতিক মহল এখনো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা নিয়ে বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত রুট আংশিকভাবে চালু থাকলেও তা বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ। কারণ সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এই ধরনের সিদ্ধান্তও বারবার পরিবর্তিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনাকে কিছুটা উজ্জ্বল করেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এখনো জটিল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে, যার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত