প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও শহরায়ণের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন মহানগরের মতো রাজধানী ঢাকাতেও দিন দিন বেড়েই চলেছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর নাগরিকরা দূষিত বাতাসের প্রভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে প্রকাশিত এ তথ্য নাগরিকদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
আইকিউএয়ারের স্কোর অনুযায়ী, শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই, যেখানে ২০৬ স্কোর পাওয়া গেছে এবং বাতাসের মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ভারতের দিল্লি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, স্কোর ১৯৩। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ১৬৪ স্কোর নিয়ে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইকিউএয়ারের একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত হলে বাতাসকে ভালো বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর মধ্যম মানে ধরা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। তবে ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরের মধ্যে বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরের মধ্যে থাকা অবস্থাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এ ধরনের অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের বাড়ির ভিতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অন্যদের বাড়ির বাইরে কার্যক্রম সীমিত করার সতর্কতা জানানো হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরের মধ্যে অবস্থাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলা হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
ঢাকার বায়ুদূষণ মূলত পাঁচটি দূষক পদার্থের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)। এই দূষক পদার্থগুলো মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসপ্রণালীতে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য দূষিত বাতাস অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ঢাকার বাতাসের মান নিয়মিতভাবে খারাপ হওয়ার পেছনে নগরায়ণ, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্প কারখানার ধোঁয়া এবং গাছপালার কমে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা হয়। বায়ুদূষণ শুধু ফুসফুসের সমস্যা নয়, বরং হৃদরোগ, অ্যালার্জি, চর্মরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিও তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দূষিত বায়ু মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নাগরিকদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন। শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের ঘরের ভিতরে থাকার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক ব্যবহার, পরিস্কার পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং ব্যায়াম সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও যানবাহনের ধোঁয়া কমানো, গাছ লাগানো এবং শিল্প কারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দূষণ কমানোর কার্যক্রমও দ্রুত প্রয়োজন।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে যদি নাগরিকরা দূষিত বাতাসের কারণে স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সাবধানতা না নেন। তাই শহরের মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে মিলিতভাবে দূষণ কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান এই অবস্থায় থাকায় বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের জন্য বাড়ির ভিতরে থাকা এবং বাইরে কার্যক্রম সীমিত করার পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইকিউএয়ারের এই তথ্য ঢাকার নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরায়ণের কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। তাই নাগরিকদের সচেতন হওয়া এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।