বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রথমবার নেপালি সিনেমা—সিনেপ্লেক্সে ‘মিসিং’-এর আত্মপ্রকাশ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৬ বার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই । একটি বাংলাদেশডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন একটি অধ্যায়। প্রথমবারের মতো দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে নেপালের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। দক্ষিণ এশীয় ফিল্ম কো-প্রোডাকশন ও বিনিময় চুক্তি ‘সাফটা’র আওতায় স্টার সিনেপ্লেক্সে আজ মুক্তি পেয়েছে নেপালি সিনেমা ‘মিসিং: কেটি হারায়েকো সূচনা’। এই ঐতিহাসিক মুক্তি কেবল দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করল না, বরং অঞ্চলভিত্তিক চলচ্চিত্র বিনিময়ের সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করল।

‘মিসিং’-এর নির্মাতা দীপেন্দ্র গাওছান এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরেছেন আধুনিক সমাজের প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার জটিলতা। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর গড়ে ওঠা এক জোড়া তরুণ-তরুণীর সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের জটিল বাঁক। সম্পর্কের মাঝে এক সময়ের ভুল বোঝাবুঝি, রহস্যময় অপহরণ এবং তারই মাঝে প্রেম ও আস্থার সূক্ষ্ম টানাপড়েন দর্শককে এক মনস্তাত্ত্বিক যাত্রায় নিয়ে যাবে।

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগের যুগে সম্পর্কের জটিলতায় যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা যেমন তুলে ধরেছে, তেমনি তা থেকে বেরিয়ে আসার মানসিক সংগ্রাম ও মানবিক বোধও প্রকাশ করেছে। নেপালি সংস্কৃতি, ভাষা ও নাগরিক জীবনধারার সমসাময়িক রূপ তুলে ধরার পাশাপাশি, এই সিনেমা একটি বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলনও বটে।

স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র বিনিময়ের যে দ্বার সাফটা চুক্তির মাধ্যমে উন্মুক্ত হয়েছে, এই উদ্যোগ সেই ধারারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর ফলে বাংলাদেশের দর্শকরা যেমন অন্য দেশের গল্প, নির্মাণশৈলী ও সংস্কৃতির স্বাদ নিতে পারবেন, তেমনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারবে।

নেপালের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও কিছুদিন আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। এই বিনিময় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সিনেমা-শিল্পীরা যেমন পারস্পরিক আদান-প্রদান ও সহযোগিতার সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি দর্শকরাও পাচ্ছেন ভিন্নধর্মী কনটেন্ট উপভোগের সুযোগ।

বাংলাদেশে নেপালের সিনেমা মুক্তির ঘটনা শুধু একটি প্রেক্ষাগৃহে একটি সিনেমা দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রাথমিক ধাপ। বিনিময়ভিত্তিক এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও চলচ্চিত্র শিল্পের পরিসর বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে যখন আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রগুলো বিশ্ববাজারে স্থান করে নিতে শুরু করেছে, তখন ‘মিসিং’-এর মতো ছবির বাংলাদেশে মুক্তি এ অঞ্চলের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য এক আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত। চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ-সংস্কৃতি, মনস্তত্ত্ব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ারও শক্তিশালী একটি বাহন। সেদিক থেকে এ মুক্তি নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বাংলাদেশের সিনেমা হলে নেপালি চলচ্চিত্রের এমন উপস্থিতি এক নতুন সাংস্কৃতিক যাত্রার সূচনা করল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা, এই যাত্রা কতটা গভীরে গড়ায়, এবং দুই দেশের দর্শক-সংশ্লিষ্টদের মননে কতটা ছাপ রেখে যেতে পারে এই ‘মিসিং’-এর মত আন্তঃসীমান্ত গল্প।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com