প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের জনগণকে হামজনিত বিপদের মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকায় শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বজ্রপাতের মতো হঠাৎ এই হাম দেশে এসেছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকাসহ রাজশাহী, মানিকগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
২০১৮ সালের পর দেশে হাম টিকা দেওয়ার কোনো প্রচারণা হয়নি। সরকারের নির্দেশনায় হামের জন্য নতুন করে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করা হবে এবং শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দ্রুত টিকা প্রদান করা হবে। ইউনিসেফের মাধ্যমে এই টিকা শিগগিরই দেশে পৌঁছানো হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং তীব্রতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে। বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমানো সম্ভব হবে, যা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি যন্ত্র।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামজনিত সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি শুধুমাত্র চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় টিকা সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগে নাগরিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামজনিত রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা ও টিকা প্রদানের মাধ্যমে মৃত্যু ও জটিলতা কমানো সম্ভব। এছাড়া, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মেডিকেল সরঞ্জাম এবং trained চিকিৎসক ও নার্স থাকার ফলে শিশুদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
এদিকে, সরকারের এই প্রস্তুতি কার্যক্রমের পাশাপাশি জনগণকে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।
সার্বিকভাবে, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সকল রকম ঝুঁকি ও সমস্যার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা সরবরাহ করা হবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।