ট্রাম্পের হুমকিতে তেলের বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়ালো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
হরমুজ প্রণালি তেল দাম

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার তীব্রতা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়ে গেছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দিলে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে—এমন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের দেওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এশিয়ার বাজারে ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০.৮৫ ডলারে পৌঁছেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৮ শতাংশ বাড়ে ১১২.৪০ ডলারে।

এই হুমকি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হবে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল—যে কোনো জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চায়, তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হবে। এই সংকটের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাসের পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। এই সরু জলপথে বিঘ্ন ঘটায় তেলের সরবরাহে অস্থায়ীভাবে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের ওপর হুমকি আরও বাড়িয়ে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ইরানকে “প্রস্তর যুগে” ফিরিয়ে দেবে। এরপরই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে চলে যায়। তেহরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের দেশের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর আক্রমণ আরও বাড়ানো হবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। রোববার কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় একাধিক হামলার কথা স্বীকার করেছে তেহরান। এই পরিস্থিতি তেলের সরবরাহে জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।

সৌদি আরব ও রাশিয়ার মতো বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর জোট ওপেকপ্লাস মে মাসের জন্য উৎপাদন সামান্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে দৈনিক দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল উৎপাদনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, কারণ সংঘাতের কারণে জোটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে না।

বিশ্ববাজারের উপর এই অব্যাহত চাপের প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তেলের মূল্য বাড়তে থাকলে জ্বালানি খরচের কারণে শিল্প, পরিবহন ও গৃহস্থালির ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, ট্রাম্পের হুমকি এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া মিলিতভাবে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এতে বিনিয়োগকারী এবং সরকারগুলো সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে, যাতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকটের সমাধান না হলে আগামী মাসে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত